মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১১:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬

বর্ণবাদ ও ইসলামবিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে তোপের মুখে ইলন মাস্ক

বিশ্বের শীর্ষ ধনী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এর মালিক ইলন মাস্কের ভূমিকা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মাস্ক কেবল তার বিতর্কিত রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রচারেই ক্ষান্ত নন, বরং তিনি সুকৌশলে বর্ণগত বিভাজন, ইসলামবিদ্বেষ এবং উগ্র ডানপন্থী রাজনীতিকে উসকে দিচ্ছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্য ইকোনমিস্টের প্রধান সম্পাদক জ্যানি মিন্টন বেডোসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাস্ক ইসলাম ও মুসলিমদের নিয়ে অত্যন্ত নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। তিনি মুসলিম সমাজকে পশ্চিমা মূল্যবোধের বিরোধী এবং সহিংসতার প্রতীক হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করেছেন বলে সমালোচকরা অভিযোগ তুলেছেন। মাস্কের এসব বক্তব্য উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর দীর্ঘদিনের অপপ্রচারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, মাস্ক নিজেকে বর্ণবাদবিরোধী দাবি করলেও তার প্ল্যাটফর্ম এক্সে তিনি নিয়মিত ‘গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট থিওরি’ এবং ‘হোয়াইট জেনোসাইড’-এর মতো চরমপন্থী তত্ত্বগুলো শেয়ার করছেন। শ্বেতাঙ্গরা সংখ্যালঘুতে পরিণত হচ্ছে—এমন দাবি সংবলিত তার পোস্টগুলো কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করছে।

এছাড়া রাজনৈতিকভাবেও মাস্কের অবস্থান এখন স্পষ্ট। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণায় বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি ইউরোপের বিভিন্ন উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, মাস্কের এই কার্যক্রম কেবল ব্যক্তিগত মত প্রকাশ নয়, বরং বিশ্বজুড়ে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও সামাজিক মেরুকরণ তৈরির সুদূরপ্রসারী প্রচেষ্টা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের ঝাড়খণ্ডে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দিল্লির আলোচিত যুবক জুনায়েদ

বর্ণবাদ ও ইসলামবিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে তোপের মুখে ইলন মাস্ক

আপডেট সময় : ১০:৪১:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

বিশ্বের শীর্ষ ধনী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এর মালিক ইলন মাস্কের ভূমিকা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মাস্ক কেবল তার বিতর্কিত রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রচারেই ক্ষান্ত নন, বরং তিনি সুকৌশলে বর্ণগত বিভাজন, ইসলামবিদ্বেষ এবং উগ্র ডানপন্থী রাজনীতিকে উসকে দিচ্ছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্য ইকোনমিস্টের প্রধান সম্পাদক জ্যানি মিন্টন বেডোসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাস্ক ইসলাম ও মুসলিমদের নিয়ে অত্যন্ত নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। তিনি মুসলিম সমাজকে পশ্চিমা মূল্যবোধের বিরোধী এবং সহিংসতার প্রতীক হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করেছেন বলে সমালোচকরা অভিযোগ তুলেছেন। মাস্কের এসব বক্তব্য উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর দীর্ঘদিনের অপপ্রচারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, মাস্ক নিজেকে বর্ণবাদবিরোধী দাবি করলেও তার প্ল্যাটফর্ম এক্সে তিনি নিয়মিত ‘গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট থিওরি’ এবং ‘হোয়াইট জেনোসাইড’-এর মতো চরমপন্থী তত্ত্বগুলো শেয়ার করছেন। শ্বেতাঙ্গরা সংখ্যালঘুতে পরিণত হচ্ছে—এমন দাবি সংবলিত তার পোস্টগুলো কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করছে।

এছাড়া রাজনৈতিকভাবেও মাস্কের অবস্থান এখন স্পষ্ট। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণায় বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি ইউরোপের বিভিন্ন উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, মাস্কের এই কার্যক্রম কেবল ব্যক্তিগত মত প্রকাশ নয়, বরং বিশ্বজুড়ে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও সামাজিক মেরুকরণ তৈরির সুদূরপ্রসারী প্রচেষ্টা।