ভারতের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) দেশব্যাপী জনসংযোগ কর্মসূচি শুরু করেছে। সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনের পর দলটি এই উদ্যোগ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার নিজ শহর ছত্রপতি সম্ভাজীনগরে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক ‘ক্যায়া বোলতি পাবলিক’ শীর্ষক এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলো সরাসরি অনুধাবন করা।
চলতি বছরের জুন-জুলাই মাসে নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন শুরু করেছিল। ২৫ জুলাই ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করার পর সেই আন্দোলন শেষ হয়। বৃহস্পতিবার দীপকের সঙ্গে দলের মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা তুলে ধরেন।
অভিজিৎ দীপক জানান, তাদের প্রচারণায় শিক্ষাখাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তিনি অভিযোগ করেন, স্কুল, কলেজ ও কোচিং সেন্টারের ক্রমবর্ধমান বেতন অনেক পরিবারের জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন করে তুলেছে। তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা কমছে এবং ক্ষোভ বাড়ছে।
দীপক বলেন, “সকালে মানুষ এক দলকে ভোট দেয়, সন্ধ্যায় সেই জনপ্রতিনিধি অন্য দলে চলে যান। কোথাও ভোট এক সরকারের পক্ষে পড়ে, কিন্তু পরে অন্য সরকার গঠিত হয়। তা না হলে ইডি-সিবিআই ব্যবহার করে দল ভাঙা হয়। এভাবে চলতে থাকলে তা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক।” তিনি নির্বাচন কমিশন ও বিচারব্যবস্থার জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার অভিযোগ, “আগে ভোটার সরকার বেছে নিত, এখন সরকার ঠিক করছে কে ভোট দেবে। সাধারণ মানুষের মামলার শুনানি বিলম্বিত হলেও প্রভাবশালীদের ক্ষেত্রে দ্রুত, এমনকি মধ্যরাতেও শুনানি হয়।”
ঝাড়খণ্ডের জেপিএসসি ও জেএসএসসি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, দলটি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে রয়েছে। একটি প্রতিনিধি দল রাঁচিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করবে এবং পরে দলের শীর্ষ নেতারাও সেখানে যাবেন। দেশব্যাপী প্রচারণার বিষয়ে দীপক বলেন, কোনো সংগঠনের নিজস্ব এজেন্ডা থাকা জরুরি, তবে জনগণের মতামতও জানতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে যন্তর মন্তরের আন্দোলনে অংশ নেওয়া মানুষ শিক্ষা ইস্যুর পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন ও বিচারব্যবস্থা নিয়েও কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন, তাই আরও বিস্তৃত জনপরামর্শের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
রিপোর্টারের নাম 



















