ঢাকা ১১:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ভোটের তফসিল

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪০:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মক (অনুশীলনী) ভোটিংয়ের কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে এ কথা বলেন সিইসি। তিনি বলেন, আমরা আশা করছি, আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা হবে।

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ উপলক্ষে কমিশনের পক্ষ থেকে গতকাল একটি বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে গণভোটে উপস্থাপিত প্রশ্ন, সংশ্লিষ্ট সনদ ও সংস্কারের বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মক (অনুশীলনী) ভোটিংয়ের কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে নাসির উদ্দিন বলেন, মক ভোটিংটা যেরকম হলো, সেইভাবে একটা ইলেকশন উপহার দিতে চাই, এমন স্বচ্ছভাবে ভোট করতে চাই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে উন্নতি হবে এবং পরিস্থিতি নির্বাচনের অনুকূল থাকবে। তফসিলের পর প্রয়োজন হলে প্রশাসনে রদবদলের উদ্যোগ নেবেন বলে জানান তিনি।

ভোটকক্ষে সংবাদকর্মীদের প্রবেশের বিষয়ে সিইসি বলেন, কেন সাংবাদিকরা বলেন আমাদের ভেতরে থাকতে দিতে হবে। আপনারা দেখলেন একটা রুমের মধ্যে এজেন্টরা আছেন, পোলিং অফিসার আছেন, প্রিসাইডিং অফিসার আছেন, ভোটাররা ঢুকছেন; এখন সাংবাদিক আবার অবজারভাররা আসবেন, দেশি-বিদেশি অবজারভাররা আসবেন, এখন সাংবাদিক ভাইয়েরা যদি ঢুকে ধাক্কাধাক্কি করেন, অনেকক্ষণ যদি দাঁড়িয়ে থাকেন, তা হলে হ-য-ব-র-ল অবস্থা সৃষ্টি হবে। পোলিং সেন্টারের ভেতরে এইটা অ্যাভয়েড করার জন্য আমরা বলছি যে, আপনারা একটু নিজেদের বিবেক অ্যাপ্লাই করে নির্দিষ্ট সময়টার মধ্যে কাজটা সেরে বেরিয়ে যাবেন। সংসদ ও গণভোট একসঙ্গে দিতে গিয়ে ভোটারদের বেশি সময় লাগার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, এ অ্যাসেসমেন্টটা আজ (শনিবার) হবে। আর আমাদের রিয়েল টাইম অ্যাসেসমেন্ট আজ (শনিবার) তো একটা দেখলাম। দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে- এটাও একটা এক্সপেরিয়েন্স, এটা আমরা অ্যাড্রেস করব। আমাদের পরিকল্পনায় যত ধরনের গ্যাপ আছে, যে ঘাটতিগুলো আছে প্র্যাক্টিকেল অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমরা এগুলো মিটআপ করে ফেলব।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে মনে করেন নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাতে তো ঘুমাতে পারেননি। এখন শান্তিতে ঘুমাতে পারছেন, আপনি শান্তিতে আছেন। এ পর্যন্ত আপনার ক্যামেরা কি ছিনতাই করেছে? করেনি তো। অর্ডার সিচুয়েশন ইমপ্রুভ করে গেছে, অনেক ইমপ্রুভ করেছে। আমরা তো কন্টিনিউয়াসলি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কোর্ডিনেটিং সবাই ট্রেনিং করছে। ইনশাআল্লাহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখেন। বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ওয়াজ নেভার পারফেক্ট। বলে তো লাভ নেই চুরি, ছিনতাই, মারামারি এগুলো কি আগে ছিল না? আগেও তো ছিল, সবসময় তো ছিল। বাট এগুলো হবে বিচ্ছিন্ন ঘটনা। ওভারল এনভায়রনমেন্ট ফর পোলিং-এটা আমরা এনশিউর করব, ইনশাআল্লাহ। ধীরে ধীরে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।

একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট : ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভোটারদের সামনে উপস্থাপন করা হবে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫-সংক্রান্ত একটি নির্দিষ্ট প্রশ্ন। ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’-এই দুটি বিকল্পের মধ্যে একটিকে বেছে নেবেন।

গণভোটের প্রশ্নে বলা হবে- ‘আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলোর প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?’ (হ্যাঁ/না)।

(ক) নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।

(খ) আগামী জাতীয় সংসদ হবে দুই কক্ষবিশিষ্ট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের অনুমোদন দরকার হবে।

(গ) সংসদে নারী প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল হতে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাসহ তফসিলে বর্ণিত যে ৩০টি বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদে ঐকমত্য হয়েছে- সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী রাজনৈতিক দলগুলো বাধ্য থাকবে।

(ঘ) জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের প্রতি শান্তি আলোচনার প্রস্তাব

ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ভোটের তফসিল

আপডেট সময় : ০৮:৪০:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মক (অনুশীলনী) ভোটিংয়ের কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে এ কথা বলেন সিইসি। তিনি বলেন, আমরা আশা করছি, আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা হবে।

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ উপলক্ষে কমিশনের পক্ষ থেকে গতকাল একটি বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে গণভোটে উপস্থাপিত প্রশ্ন, সংশ্লিষ্ট সনদ ও সংস্কারের বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মক (অনুশীলনী) ভোটিংয়ের কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে নাসির উদ্দিন বলেন, মক ভোটিংটা যেরকম হলো, সেইভাবে একটা ইলেকশন উপহার দিতে চাই, এমন স্বচ্ছভাবে ভোট করতে চাই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে উন্নতি হবে এবং পরিস্থিতি নির্বাচনের অনুকূল থাকবে। তফসিলের পর প্রয়োজন হলে প্রশাসনে রদবদলের উদ্যোগ নেবেন বলে জানান তিনি।

ভোটকক্ষে সংবাদকর্মীদের প্রবেশের বিষয়ে সিইসি বলেন, কেন সাংবাদিকরা বলেন আমাদের ভেতরে থাকতে দিতে হবে। আপনারা দেখলেন একটা রুমের মধ্যে এজেন্টরা আছেন, পোলিং অফিসার আছেন, প্রিসাইডিং অফিসার আছেন, ভোটাররা ঢুকছেন; এখন সাংবাদিক আবার অবজারভাররা আসবেন, দেশি-বিদেশি অবজারভাররা আসবেন, এখন সাংবাদিক ভাইয়েরা যদি ঢুকে ধাক্কাধাক্কি করেন, অনেকক্ষণ যদি দাঁড়িয়ে থাকেন, তা হলে হ-য-ব-র-ল অবস্থা সৃষ্টি হবে। পোলিং সেন্টারের ভেতরে এইটা অ্যাভয়েড করার জন্য আমরা বলছি যে, আপনারা একটু নিজেদের বিবেক অ্যাপ্লাই করে নির্দিষ্ট সময়টার মধ্যে কাজটা সেরে বেরিয়ে যাবেন। সংসদ ও গণভোট একসঙ্গে দিতে গিয়ে ভোটারদের বেশি সময় লাগার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, এ অ্যাসেসমেন্টটা আজ (শনিবার) হবে। আর আমাদের রিয়েল টাইম অ্যাসেসমেন্ট আজ (শনিবার) তো একটা দেখলাম। দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে- এটাও একটা এক্সপেরিয়েন্স, এটা আমরা অ্যাড্রেস করব। আমাদের পরিকল্পনায় যত ধরনের গ্যাপ আছে, যে ঘাটতিগুলো আছে প্র্যাক্টিকেল অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমরা এগুলো মিটআপ করে ফেলব।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে মনে করেন নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাতে তো ঘুমাতে পারেননি। এখন শান্তিতে ঘুমাতে পারছেন, আপনি শান্তিতে আছেন। এ পর্যন্ত আপনার ক্যামেরা কি ছিনতাই করেছে? করেনি তো। অর্ডার সিচুয়েশন ইমপ্রুভ করে গেছে, অনেক ইমপ্রুভ করেছে। আমরা তো কন্টিনিউয়াসলি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কোর্ডিনেটিং সবাই ট্রেনিং করছে। ইনশাআল্লাহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখেন। বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ওয়াজ নেভার পারফেক্ট। বলে তো লাভ নেই চুরি, ছিনতাই, মারামারি এগুলো কি আগে ছিল না? আগেও তো ছিল, সবসময় তো ছিল। বাট এগুলো হবে বিচ্ছিন্ন ঘটনা। ওভারল এনভায়রনমেন্ট ফর পোলিং-এটা আমরা এনশিউর করব, ইনশাআল্লাহ। ধীরে ধীরে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।

একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট : ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভোটারদের সামনে উপস্থাপন করা হবে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫-সংক্রান্ত একটি নির্দিষ্ট প্রশ্ন। ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’-এই দুটি বিকল্পের মধ্যে একটিকে বেছে নেবেন।

গণভোটের প্রশ্নে বলা হবে- ‘আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলোর প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?’ (হ্যাঁ/না)।

(ক) নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।

(খ) আগামী জাতীয় সংসদ হবে দুই কক্ষবিশিষ্ট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের অনুমোদন দরকার হবে।

(গ) সংসদে নারী প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল হতে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাসহ তফসিলে বর্ণিত যে ৩০টি বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদে ঐকমত্য হয়েছে- সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী রাজনৈতিক দলগুলো বাধ্য থাকবে।

(ঘ) জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করবে।