দেশের ব্যাংক খাত, আন্তঃব্যাংক বাজার এবং খোলাবাজার (কার্ব মার্কেট)—সব জায়গায় মার্কিন ডলারের দাম নতুন করে চড়া রূপ ধারণ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি ডলারের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৩ টাকা ৮২ পয়সা এবং স্পট বা তাৎক্ষণিক বাজারে যা বিক্রি হচ্ছে ১২৩ টাকা ৮৮ পয়সায়। তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ঋণপত্র বা এলসির (LC) দায় মেটাতে বেশ কিছু বাণিজ্যিক ব্যাংককে প্রতি ডলার প্রায় ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সা পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে। বিপরীতে রাজধানীর খোলা বাজারে সাধারণ গ্রাহকদের প্রতি ডলার কিনতে হচ্ছে ১২৬ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ১২৬ টাকা ৮০ পয়সায়।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা ও চাপ বাড়ার নেপথ্যে প্রধানত তিনটি কারণ ক্রিয়াশীল:
১. আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি: মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতা নতুন করে ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে সরকারি ও বেসরকারি উভয় পর্যায়ে জ্বালানি ও সার আমদানির বড় অঙ্কের বিল মেটাতে গিয়ে বাড়তি বিপুল পরিমাণ ডলারের প্রয়োজন হচ্ছে।
২. আমদানি-রপ্তানির বড় ব্যবধান: ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে দেশে আমদানির পরিমাণ ৬.২৬ শতাংশ বেড়ে ৬৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে একই সময়ে দেশে রপ্তানি আয় ২ শতাংশের মতো কমে নেমে এসেছে ৪০ বিলিয়ন ডলারে। দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আসার চেয়ে বের হয়ে যাওয়ার পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ায় বাজারে এই কৃত্রিম সংকট প্রকট হয়েছে।
৩. রেমিট্যান্স প্রবাহে ধীরগতি: টানা ছয় মাস প্রতি মাসে ৩০০ কোটি (৩ বিলিয়ন) ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসার পর দুই ঈদ (ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা) কেটে যাওয়ায় রেমিট্যান্সের গতি কিছুটা কমে এসেছে। গত জুন ও জুলাই মাসে রেমিট্যান্স নেমে এসেছে যথাক্রমে ২৮২ কোটি ও ২৮৬ কোটি ডলারে।
বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আন্তঃব্যাংক বা রেমিট্যান্স—কোনো মাধ্যম থেকেই কোনো ব্যাংক ১২৩ টাকা ৮২ পয়সার বেশি দামে ডলার কিনতে পারবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর তদারকি ও বাজার নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ ডলারের দামে কতটুকু স্থিতিশীলতা আনে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
রিপোর্টারের নাম 
























