মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১২:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬

৪২ বছরেও চালু হয়নি বকশীগঞ্জ কারাগার: জাতীয় অপচয় ও অব্যবস্থাপনার নজির

জামালপুরের বকশীগঞ্জে বিশাল আয়তনে নির্মিত উপজেলা সাব-জেল বা উপকারাগার প্রায় চার দশক ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ১৯৮৪ সালে নির্মাণকাজ শেষ হলেও বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতার কারণে এটি আজও চালু হয়নি। এই অব্যবহৃত স্থাপনাটি একটি জাতীয় অপচয় এবং স্থানীয় প্রশাসনিক স্থবিরতার বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পুরোনো নথি অনুযায়ী, প্রায় ২.৭৩ একর বা আট বিঘারও বেশি জমির ওপর এই সাব-জেল কমপ্লেক্সটি নির্মিত হয়েছিল। এখানে বন্দিদের জন্য ব্যারাক, প্রশাসনিক ভবন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক কোয়ার্টার, খেলার মাঠ এবং একটি বড় পুকুরও খনন করা হয়েছিল। সে সময় বকশীগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের জামালপুর জেলা কারাগারে আনা-নেওয়ার দীর্ঘ পথ ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যে এই কারাগারটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু অজানা প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতার কারণে প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি।

বর্তমানে কারাগারের ভবনগুলো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। দেয়ালে ফাটল, ছাদের পলেস্তারা খসে পড়া এবং জানালা-দরজার অনেক অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। চারপাশে ঝোপঝাড় গজিয়ে এলাকাটি জনমানবশূন্যে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় সরকারি এই মূল্যবান সম্পত্তির কিছু অংশে দখল ও চাষাবাদের প্রবণতা দেখা দিয়েছে, যা ভবিষ্যৎ বেদখলের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাযথ সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সরকারি এই সম্পদটি নষ্ট হচ্ছে। স্থানীয়রা মনে করেন, এর মূল কাঠামো ঠিক রেখে এখানে একটি শিশু বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা যেতে পারে, যা স্মৃতিস্বরূপ জেলখানার অবস্থানকে স্মরণ করিয়ে দেবে এবং শিশুদের আনন্দ দেবে। এছাড়া, কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করা হলে এলাকার কৃষকরাও উপকৃত হবেন।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোসা. কনিকা খাতুন জানিয়েছেন, স্থাপনাটি ২০০৩ সালে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে ছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টাঙ্গুয়ার হাওরের ইসিএ জোনে নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, জারি হলো জরুরি ১৩ নির্দেশনা

৪২ বছরেও চালু হয়নি বকশীগঞ্জ কারাগার: জাতীয় অপচয় ও অব্যবস্থাপনার নজির

আপডেট সময় : ১০:২৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

জামালপুরের বকশীগঞ্জে বিশাল আয়তনে নির্মিত উপজেলা সাব-জেল বা উপকারাগার প্রায় চার দশক ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ১৯৮৪ সালে নির্মাণকাজ শেষ হলেও বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতার কারণে এটি আজও চালু হয়নি। এই অব্যবহৃত স্থাপনাটি একটি জাতীয় অপচয় এবং স্থানীয় প্রশাসনিক স্থবিরতার বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পুরোনো নথি অনুযায়ী, প্রায় ২.৭৩ একর বা আট বিঘারও বেশি জমির ওপর এই সাব-জেল কমপ্লেক্সটি নির্মিত হয়েছিল। এখানে বন্দিদের জন্য ব্যারাক, প্রশাসনিক ভবন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক কোয়ার্টার, খেলার মাঠ এবং একটি বড় পুকুরও খনন করা হয়েছিল। সে সময় বকশীগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের জামালপুর জেলা কারাগারে আনা-নেওয়ার দীর্ঘ পথ ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যে এই কারাগারটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু অজানা প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতার কারণে প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি।

বর্তমানে কারাগারের ভবনগুলো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। দেয়ালে ফাটল, ছাদের পলেস্তারা খসে পড়া এবং জানালা-দরজার অনেক অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। চারপাশে ঝোপঝাড় গজিয়ে এলাকাটি জনমানবশূন্যে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় সরকারি এই মূল্যবান সম্পত্তির কিছু অংশে দখল ও চাষাবাদের প্রবণতা দেখা দিয়েছে, যা ভবিষ্যৎ বেদখলের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাযথ সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সরকারি এই সম্পদটি নষ্ট হচ্ছে। স্থানীয়রা মনে করেন, এর মূল কাঠামো ঠিক রেখে এখানে একটি শিশু বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা যেতে পারে, যা স্মৃতিস্বরূপ জেলখানার অবস্থানকে স্মরণ করিয়ে দেবে এবং শিশুদের আনন্দ দেবে। এছাড়া, কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করা হলে এলাকার কৃষকরাও উপকৃত হবেন।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোসা. কনিকা খাতুন জানিয়েছেন, স্থাপনাটি ২০০৩ সালে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে ছিল।