কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আবাসিক হলগুলোতে গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতির অবসান, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত আবাসন এবং স্বচ্ছ নীতিমালার ভিত্তিতে আসন বরাদ্দের দাবিতে পাঁচ দফা পেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কুবি শাখা। শনিবার (২ আগস্ট) সংগঠনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীমের কাছে এ সংক্রান্ত একটি স্মারকলিপি জমা দেয়। এসময় শাখা সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন আবির ও সেক্রেটারি মো. সাইফুল ইসলামসহ অসংখ্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, সম্প্রতি বিজয়-২৪ হলে নিয়মবহির্ভূতভাবে শিক্ষার্থী ওঠানোর অভিযোগ এবং এর আগে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলে সিট বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা আবাসিক হলের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এতে হলের স্বচ্ছতা, সমতা ও ন্যায়ভিত্তিক পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ছাত্রশিবিরের উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে: মেধা, দূরত্ব, আর্থিক অসচ্ছলতা ও অন্যান্য যৌক্তিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে স্বচ্ছ আসন বরাদ্দ নীতিমালা প্রণয়ন; আবাসিক হলকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা; গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ; নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য র্যাগিংমুক্ত ও নিরাপদ আবাসিক পরিবেশ নিশ্চিত করা; এবং হলসংক্রান্ত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।
শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোজাম্মেল হোসাইন আবির বলেন, “আবাসিক হলে শিক্ষার্থী ওঠানোর একক কর্তৃত্ব হল প্রশাসনের হাতে থাকতে হবে। গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে, ছাত্রত্ব শেষ হওয়া ব্যক্তিদের হল ছাড়াতে হবে এবং নতুন শিক্ষার্থীদের ন্যায্যতার ভিত্তিতে আসন বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি জানান, প্রশাসন বিষয়টি প্রভোস্ট কমিটির সভায় আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, “তারা আবাসিক হলের সিট বরাদ্দের নীতিমালাসহ কয়েকটি দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আজই প্রভোস্ট কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” ছাত্রশিবির নেতারা আশা প্রকাশ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সময়োপযোগী উদ্যোগ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে ন্যায়ভিত্তিক, স্বচ্ছ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
রিপোর্টারের নাম 
























