দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে একজন মৎস্য চাষির লিজ নেওয়া পুকুর থেকে প্রায় ৬ লাখ টাকার মাছ রাতের আঁধারে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মৎস্য চাষি শ্রী পুর্ণ চন্দ্র দাস দাবি করেছেন, পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েও জড়িতদের আটক করেনি, বরং তাদের গাড়িতে মাছের ব্যাগ নিয়ে ফিরে যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছিল বিগত সরকারের আমলে, যখন গত ২৭ জুলাই (কোনো এক বছরে) নুরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি ইজারা কমিটির যোগসাজশে জোরপূর্বক তার পুকুর থেকে মাছ মেরে নেন বলে অভিযোগ। এর আগে ২৩ জুলাই একই পুকুরের নিলামে নুরুল ইসলাম সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হলেও, সরকারি কোষাগারে নিলামের টাকা পরিশোধ করেননি। শ্রী পুর্ণ চন্দ্র দাস বলেন, তিনি গত ২৪ বছর ধরে সরকারি নিয়ম মেনে এই পুকুরে মাছ চাষ করে আসছেন।
ভুক্তভোগী মৎস্য চাষি শনিবার (কোনো এক সময়ে) উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন রাবেয়া কমিউনিটি সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব অভিযোগ করেন। তার লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, মাছ লুটের সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে ফোন করেও কোনো সাড়া পাননি। পরে থানায় ফোন করলে এসআই কমলা কান্ত তাৎক্ষণিকভাবে এসআই আশরাফুল ইসলামকে ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পাঠান।
শ্রী দাস অভিযোগ করেন, এসআই আশরাফুল আলম ঘটনাস্থলে জাল, পিকআপসহ দুর্বৃত্তদের হাতেনাতে পেলেও ‘অদৃশ্য কারণে’ কাউকে আটক না করে চলে আসেন। তার পুকুরের পাহারাদার পুলিশ সদস্যদের গাড়িতে মাছের কয়েকটি ব্যাগ দেখতে পাওয়ার দাবি করেন। ঘটনার পরদিন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামিউল ইসলামের সঙ্গে দেখা করলে তিনি প্রথমে বিষয়টি দেখবেন বলে সময়ক্ষেপণ করেন এবং পরে দেওয়ানি আদালতে চুরির মামলা করার পরামর্শ দেন।
পুর্ণ চন্দ্র দাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উপজেলায় ৬৪টি পুকুরের নিলাম হলেও অন্য কোনো পুকুরে এমন মাছ লুটের ঘটনা ঘটেনি। তিনি সংখ্যালঘু হওয়ায় তাকে টার্গেট করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন। যে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসামি না ধরে ব্যাগভর্তি মাছ নিয়ে ফিরে যায়, তাদের কাছে মামলা করে বিচার পাওয়া কল্পনাতীত উল্লেখ করে তিনি কোনো মামলা করেননি।
রিপোর্টারের নাম 

























