ঢাকা ০৬:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬

সম্পত্তিতে অধিকার বঞ্চিত প্রতিবন্ধী বিধবার কান্না: সংবাদ সম্মেলনে ন্যায়বিচারের আকুতি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে স্বামীর সম্পত্তিতে নিজের ও সন্তানদের আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলে এক প্রতিবন্ধী বিধবা রহিমা বেগম সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। শনিবার শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার বঞ্চনার কথা তুলে ধরেন।

রহিমা বেগম জানান, ২০০৫ সালে শ্রীমঙ্গলের সুইনগড় এলাকার হাজি ইয়াকুব আলী খানের সঙ্গে তার ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ে হয়। স্বামীর পূর্বের দুই স্ত্রীসহ তাদের সংসারে বর্তমানে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ২০১৪ সালের মে মাসে স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে তিনি সন্তানদের নিয়ে শ্রীমঙ্গলের সুরভীপাড়া এলাকায় বসবাস করছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, স্বামীর মৃত্যুর পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রথম পক্ষের ছেলেরা তাকে মাসিক ৫ হাজার টাকা করে দিতেন। কিন্তু ২০২৩ সাল থেকে সেই অর্থ প্রদান বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন, প্রথম পক্ষের ছেলে জুনাব আলী খান ও সাহদৎ আলী খান তার সন্তানদের উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে একটি এফিডেভিটের মাধ্যমে ওয়ারিশনামা প্রস্তুত করেছেন।

রহিমা বেগমের দাবি, গত ৩১ মে তার বড় ছেলে রাশেদ আলী খান সৎ ভাইদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে তাকে ভাই হিসেবে অস্বীকার করা হয় এবং হুমকি দেওয়া হয়। একই দিন সন্ধ্যায় শহরে যাওয়ার পথে জুনাব আলী খান, সাহদৎ আলী খান ও তাদের স্বজনেরা তার ছেলেকে মারধর করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ঘটনায় তিনি আদালতে মামলা করেছেন। এছাড়াও সম্পত্তির অধিকার সংক্রান্ত আরও দুটি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, বিয়ের নিবন্ধিত কাবিননামা না থাকার সুযোগে প্রথম পক্ষের ছেলেরা তার সন্তানদের পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছেন। যদিও শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ারিশ সনদ, পৌরসভার নাগরিক সনদ, টিকা কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি নথিতে হাজি ইয়াকুব আলী খানের নাম তার স্বামী হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আবেগাপ্লুত হয়ে রহিমা বেগম বলেন, আমি একজন প্রতিবন্ধী নারী। স্বামীর সম্পত্তির প্রতি আমার কোনো লোভ নেই। কিন্তু আমার এতিম সন্তানদের পিতার সম্পত্তিতে ন্যায্য অধিকার রয়েছে। আমি সেই অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই আপনাদের সহযোগিতা চাই।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাজি ইয়াকুব আলী খানের প্রথম পক্ষের ছেলে সাহদৎ আলী খান প্রথমে রহিমা বেগমকে তার বাবার স্ত্রী হিসেবে অস্বীকার করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের শীর্ষ সেনাকর্তার হুঁশিয়ারি: আঞ্চলিক যুদ্ধে আমেরিকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হবে

সম্পত্তিতে অধিকার বঞ্চিত প্রতিবন্ধী বিধবার কান্না: সংবাদ সম্মেলনে ন্যায়বিচারের আকুতি

আপডেট সময় : ০৪:২৫:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে স্বামীর সম্পত্তিতে নিজের ও সন্তানদের আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলে এক প্রতিবন্ধী বিধবা রহিমা বেগম সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। শনিবার শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার বঞ্চনার কথা তুলে ধরেন।

রহিমা বেগম জানান, ২০০৫ সালে শ্রীমঙ্গলের সুইনগড় এলাকার হাজি ইয়াকুব আলী খানের সঙ্গে তার ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ে হয়। স্বামীর পূর্বের দুই স্ত্রীসহ তাদের সংসারে বর্তমানে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ২০১৪ সালের মে মাসে স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে তিনি সন্তানদের নিয়ে শ্রীমঙ্গলের সুরভীপাড়া এলাকায় বসবাস করছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, স্বামীর মৃত্যুর পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রথম পক্ষের ছেলেরা তাকে মাসিক ৫ হাজার টাকা করে দিতেন। কিন্তু ২০২৩ সাল থেকে সেই অর্থ প্রদান বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন, প্রথম পক্ষের ছেলে জুনাব আলী খান ও সাহদৎ আলী খান তার সন্তানদের উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে একটি এফিডেভিটের মাধ্যমে ওয়ারিশনামা প্রস্তুত করেছেন।

রহিমা বেগমের দাবি, গত ৩১ মে তার বড় ছেলে রাশেদ আলী খান সৎ ভাইদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে তাকে ভাই হিসেবে অস্বীকার করা হয় এবং হুমকি দেওয়া হয়। একই দিন সন্ধ্যায় শহরে যাওয়ার পথে জুনাব আলী খান, সাহদৎ আলী খান ও তাদের স্বজনেরা তার ছেলেকে মারধর করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ঘটনায় তিনি আদালতে মামলা করেছেন। এছাড়াও সম্পত্তির অধিকার সংক্রান্ত আরও দুটি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, বিয়ের নিবন্ধিত কাবিননামা না থাকার সুযোগে প্রথম পক্ষের ছেলেরা তার সন্তানদের পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছেন। যদিও শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ারিশ সনদ, পৌরসভার নাগরিক সনদ, টিকা কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি নথিতে হাজি ইয়াকুব আলী খানের নাম তার স্বামী হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আবেগাপ্লুত হয়ে রহিমা বেগম বলেন, আমি একজন প্রতিবন্ধী নারী। স্বামীর সম্পত্তির প্রতি আমার কোনো লোভ নেই। কিন্তু আমার এতিম সন্তানদের পিতার সম্পত্তিতে ন্যায্য অধিকার রয়েছে। আমি সেই অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই আপনাদের সহযোগিতা চাই।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাজি ইয়াকুব আলী খানের প্রথম পক্ষের ছেলে সাহদৎ আলী খান প্রথমে রহিমা বেগমকে তার বাবার স্ত্রী হিসেবে অস্বীকার করেন।