ঢাকা ০৬:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনা: সাড়ে ৬ বছরে ১,৩৮৪ মৃত্যু, আহত ২,৪৮৮

২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ঢাকা মহানগরীতে ১ হাজার ৮৪৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ১ হাজার ৩৮৪ জন নিহত এবং ২ হাজার ৪৮৮ জন আহত হয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে নিহতদের মধ্যে ৭৪.৭১ শতাংশ পুরুষ, ১৫.৮২ শতাংশ নারী এবং ৯.৪৬ শতাংশ শিশু ছিল।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিহতদের মধ্যে পথচারীর সংখ্যাই সর্বাধিক, যা মোট নিহতের ৪২.৭৭ শতাংশ। এছাড়া, ৩৮.৭২ শতাংশ নিহত হয়েছেন মোটরসাইকেল আরোহী হিসেবে এবং ১৮.৪৯ শতাংশ বাস, রিকশা, সিএনজি ও অন্যান্য যানের চালক ও যাত্রী।

দুর্ঘটনার সময়ের বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। মোট নিহতের ৩৭.৫ শতাংশ রাতে, ১৮.৬৪ শতাংশ সকালে, ১৪.০৮ শতাংশ দুপুরে, ১২.৫৭ শতাংশ বিকেলে, ১০.২৬ শতাংশ ভোরে এবং ৬.৯৩ শতাংশ সন্ধ্যায় নিহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মধ্যে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, ট্যাংকার ও ময়লাবাহী ট্রাকের অংশগ্রহণ ছিল সবচেয়ে বেশি (৩৩.২৫ শতাংশ)। এছাড়া, মোটরসাইকেল ২৬ শতাংশ, বাস ২১.৭৫ শতাংশ, অটোরিকশা, সিএনজি ও লেগুনা ১২.৭৩ শতাংশ এবং মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও জিপ ৬.২৫ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীতে বাইপাস সড়কের অভাব একটি বড় সমস্যা। রাত ১০টা থেকে ভোর পর্যন্ত মালবাহী ভারী যানবাহনগুলো দ্রুতগতিতে চলাচল করে, যা পথচারীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এর পাশাপাশি, দীর্ঘস্থায়ী যানজট চালকদের মধ্যে অসহিষ্ণুতা ও ধৈর্যহীনতা বাড়াচ্ছে, যা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

যানবাহনের তুলনায় অপ্রতুল সড়ক, একই সড়কে দ্রুত ও ধীরগতির বিভিন্ন যানের চলাচল, ফুটপাত দখল, প্রয়োজনীয় স্থানে ফুটওভার ব্রিজ না থাকা বা ব্যবহার অনুপযোগী হওয়া এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের অসচেতনতাও দুর্ঘটনা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, মোহাম্মদপুর, কুড়িল বিশ্বরোড এবং বিমানবন্দর সড়ক ঢাকার অন্যতম দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের শীর্ষ সেনাকর্তার হুঁশিয়ারি: আঞ্চলিক যুদ্ধে আমেরিকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হবে

রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনা: সাড়ে ৬ বছরে ১,৩৮৪ মৃত্যু, আহত ২,৪৮৮

আপডেট সময় : ০৪:২৪:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ঢাকা মহানগরীতে ১ হাজার ৮৪৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ১ হাজার ৩৮৪ জন নিহত এবং ২ হাজার ৪৮৮ জন আহত হয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে নিহতদের মধ্যে ৭৪.৭১ শতাংশ পুরুষ, ১৫.৮২ শতাংশ নারী এবং ৯.৪৬ শতাংশ শিশু ছিল।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিহতদের মধ্যে পথচারীর সংখ্যাই সর্বাধিক, যা মোট নিহতের ৪২.৭৭ শতাংশ। এছাড়া, ৩৮.৭২ শতাংশ নিহত হয়েছেন মোটরসাইকেল আরোহী হিসেবে এবং ১৮.৪৯ শতাংশ বাস, রিকশা, সিএনজি ও অন্যান্য যানের চালক ও যাত্রী।

দুর্ঘটনার সময়ের বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। মোট নিহতের ৩৭.৫ শতাংশ রাতে, ১৮.৬৪ শতাংশ সকালে, ১৪.০৮ শতাংশ দুপুরে, ১২.৫৭ শতাংশ বিকেলে, ১০.২৬ শতাংশ ভোরে এবং ৬.৯৩ শতাংশ সন্ধ্যায় নিহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মধ্যে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, ট্যাংকার ও ময়লাবাহী ট্রাকের অংশগ্রহণ ছিল সবচেয়ে বেশি (৩৩.২৫ শতাংশ)। এছাড়া, মোটরসাইকেল ২৬ শতাংশ, বাস ২১.৭৫ শতাংশ, অটোরিকশা, সিএনজি ও লেগুনা ১২.৭৩ শতাংশ এবং মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও জিপ ৬.২৫ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীতে বাইপাস সড়কের অভাব একটি বড় সমস্যা। রাত ১০টা থেকে ভোর পর্যন্ত মালবাহী ভারী যানবাহনগুলো দ্রুতগতিতে চলাচল করে, যা পথচারীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এর পাশাপাশি, দীর্ঘস্থায়ী যানজট চালকদের মধ্যে অসহিষ্ণুতা ও ধৈর্যহীনতা বাড়াচ্ছে, যা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

যানবাহনের তুলনায় অপ্রতুল সড়ক, একই সড়কে দ্রুত ও ধীরগতির বিভিন্ন যানের চলাচল, ফুটপাত দখল, প্রয়োজনীয় স্থানে ফুটওভার ব্রিজ না থাকা বা ব্যবহার অনুপযোগী হওয়া এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের অসচেতনতাও দুর্ঘটনা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, মোহাম্মদপুর, কুড়িল বিশ্বরোড এবং বিমানবন্দর সড়ক ঢাকার অন্যতম দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।