ঢাকা ০৭:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

অভিবাসন খাতে সিন্ডিকেট ও প্রতারণা রুখতে কঠোর হুশিয়ারি প্রতিমন্ত্রীর

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৯:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং অসাধু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড প্রটেকশন (ওইপি) প্ল্যাটফর্মের ‘কমপ্লেইন্ট ম্যানেজমেন্ট মডিউল’ উদ্বোধনকালে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর এই হুশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, অভিবাসন প্রত্যাশীদের সঙ্গে কোনো ধরনের প্রতারণা বা জালিয়াতি বরদাশত করা হবে না।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি অভিযোগ তার দপ্তরে জমা পড়ছে, যার অধিকাংশই বিদেশে গিয়ে কাজ না পাওয়া, নির্যাতন বা জিম্মি হওয়ার মতো ভয়াবহ ঘটনা। সম্প্রতি সার্বিয়া এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর নামে জনপ্রতি ৬ থেকে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ ও ব্যয়মুক্ত করার চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার আগেই কিছু অসাধু চক্র পাসপোর্ট সংগ্রহ ও টাকা নেওয়ার নামে প্রতারণা শুরু করেছে। দেশে তিন হাজারের বেশি রিক্রুটিং এজেন্সি থাকলেও তাদের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যারা শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হবে বা সিন্ডিকেট করে সাধারণ মানুষের পকেট কাটবে, তাদের লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সিঙ্গাপুরে কর্মী পাঠানোর উচ্চ ব্যয়ের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা খরচ হওয়া কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। এটি মূলত কিছু মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের কারসাজি। এই চক্র দরিদ্র মানুষের শ্রমের টাকা চুষে খাচ্ছে। বর্তমান নির্বাচিত সরকার এই অনিয়ম বন্ধে বদ্ধপরিকর। এছাড়া প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ঋণের ক্ষেত্রেও কোনো ধরনের ঘুষ বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন।

তিনি আরও বলেন, অভিবাসন কেবল রেমিট্যান্সের উৎস নয়, এটি বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের মান-মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত। তাই নিরাপদ ও নৈতিক অভিবাসন নিশ্চিত করতে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে। সিন্ডিকেট ও প্রতারকদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৯৫০ কোটি টাকার এলএনজি কিনছে সরকার

অভিবাসন খাতে সিন্ডিকেট ও প্রতারণা রুখতে কঠোর হুশিয়ারি প্রতিমন্ত্রীর

আপডেট সময় : ০৫:৪৯:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং অসাধু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড প্রটেকশন (ওইপি) প্ল্যাটফর্মের ‘কমপ্লেইন্ট ম্যানেজমেন্ট মডিউল’ উদ্বোধনকালে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর এই হুশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, অভিবাসন প্রত্যাশীদের সঙ্গে কোনো ধরনের প্রতারণা বা জালিয়াতি বরদাশত করা হবে না।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি অভিযোগ তার দপ্তরে জমা পড়ছে, যার অধিকাংশই বিদেশে গিয়ে কাজ না পাওয়া, নির্যাতন বা জিম্মি হওয়ার মতো ভয়াবহ ঘটনা। সম্প্রতি সার্বিয়া এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর নামে জনপ্রতি ৬ থেকে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ ও ব্যয়মুক্ত করার চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার আগেই কিছু অসাধু চক্র পাসপোর্ট সংগ্রহ ও টাকা নেওয়ার নামে প্রতারণা শুরু করেছে। দেশে তিন হাজারের বেশি রিক্রুটিং এজেন্সি থাকলেও তাদের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যারা শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হবে বা সিন্ডিকেট করে সাধারণ মানুষের পকেট কাটবে, তাদের লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সিঙ্গাপুরে কর্মী পাঠানোর উচ্চ ব্যয়ের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা খরচ হওয়া কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। এটি মূলত কিছু মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের কারসাজি। এই চক্র দরিদ্র মানুষের শ্রমের টাকা চুষে খাচ্ছে। বর্তমান নির্বাচিত সরকার এই অনিয়ম বন্ধে বদ্ধপরিকর। এছাড়া প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ঋণের ক্ষেত্রেও কোনো ধরনের ঘুষ বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন।

তিনি আরও বলেন, অভিবাসন কেবল রেমিট্যান্সের উৎস নয়, এটি বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের মান-মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত। তাই নিরাপদ ও নৈতিক অভিবাসন নিশ্চিত করতে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে। সিন্ডিকেট ও প্রতারকদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।