স্পেন-শাসিত উত্তর আফ্রিকার স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সিউটা-তে এক নতুন সীমান্ত সংকট দেখা দিয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে হাজার হাজার অভিবাসী মরক্কো থেকে সমুদ্রে সাঁতরে, জলপথে এবং সীমান্ত বেড়া টপকে সিউটায় প্রবেশ করেছেন। এই গণ অনুপ্রবেশের ঘটনায় অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্র অনুসারে, প্রায় ৪৯ হাজার মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে দেশে প্রবেশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার সীমান্ত বেড়া ভেঙে বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রবেশ করায় পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। এই সংকট মোকাবিলায় স্পেন সরকার অতিরিক্ত সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করেছে। সিউটার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ মাদ্রিদের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অতিরিক্ত সেনা চেয়ে আবেদন করে। এর পরেই স্পেন সরকার আরও সশস্ত্র বাহিনী পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেয়।
সিউটাতে সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর প্রধান রশিদ সবিহি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কত শরণার্থী এসেছেন তার সঠিক সংখ্যা বলা সম্ভব নয়, তবে হাজার হাজার শরণার্থী সীমান্ত পার হচ্ছেন।’ তিনি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, হাজার হাজার মানুষ সীমান্ত টপকে সমুদ্রপথে স্পেনে প্রবেশ করছেন। সমুদ্র সৈকত এবং আশেপাশের রাস্তায় অনেক শরণার্থী হেঁটে বেড়াচ্ছেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুরাও রয়েছে।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত কয়েক বছরের মধ্যে এটি সিউটায় সবচেয়ে বড় অভিবাসী অনুপ্রবেশের ঘটনা। হাজার হাজার মানুষ একসঙ্গে সীমান্তে পৌঁছানোর ফলে সীমান্তরক্ষী বাহিনী কার্যত চাপে পড়ে যায়। অনেকে সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে স্পেনের ভূখণ্ডে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন, আবার অনেকে সীমান্তের উঁচু বেড়া টপকে ভিতরে ঢুকে পড়েছেন। এই ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় তীব্র বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।
সিউটায় অবস্থিত স্পেনের সরকারি প্রতিনিধিদল জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের বিশৃঙ্খলার সময় অন্তত নয়জন মারা গেছেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, এ বছর সিউটায় পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে কয়েক ডজন মানুষ মারা গেছেন।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে স্পেন সরকার সেনাবাহিনী, অতিরিক্ত পুলিশ এবং বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে। সিউটার অভ্যর্থনা কেন্দ্রগুলো ইতিমধ্যেই উপচে পড়ছে।
রিপোর্টারের নাম 



















