ঢাকা ১০:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক: শৃঙ্খলা ফেরাতে বিগত সরকারের পদক্ষেপের কার্যকারিতা পর্যালোচনা

দেশের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা জোরদারের লক্ষ্যে বিগত সময়ে সরকার সব গণপরিবহনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ডিভাইস স্থাপন ও সচল রাখা বাধ্যতামূলক করে। এই নিয়মটি গত বছর (বা বিগত বছর) ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সে সময় থেকে যেকোনো নতুন গণপরিবহনের নিবন্ধন কিংবা ফিটনেস সনদ প্রদান ও নবায়নের ক্ষেত্রে জিপিএস সংযুক্ত থাকার প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ডিভাইসটি সক্রিয় রয়েছে কি না, সেটিও প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক করা হয়।

বিগত সরকারের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে গণপরিবহনের চলাচল আরও কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ, রুট ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং সড়কে বিশৃঙ্খলা কমানো সম্ভব হবে। তবে বিশেষজ্ঞদের অভিমত ছিল, শুধু প্রযুক্তি সংযোজন করলেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না; এর সঙ্গে কার্যকর তদারকি, জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারও নিশ্চিত করতে হবে।

জিপিএস বাধ্যতামূলক করার অন্যতম কারণ ছিল যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতায় বাসের বেপরোয়া চলাচল, নির্ধারিত স্টপেজের বাইরে যাত্রী ওঠানামা এবং বিভিন্ন স্থানে একাধিক লেন দখল করে যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজট। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ার পাশাপাশি স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম খান সে সময় জানিয়েছিলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জিপিএস স্থাপনের চুক্তি সম্পন্ন হলেও ১ আগস্ট থেকেই সব যানবাহনে শতভাগ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না এবং পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আরও কিছু সময় লাগবে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জিপিএস সংযুক্ত ও সচল না থাকলে কোনো গণপরিবহন নতুন নিবন্ধন কিংবা ফিটনেস সনদ পাবে না এবং বিদ্যমান ফিটনেসও নবায়ন করা হবে না। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এ কারণে পরিবহন মালিক ও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিল। বিআরটিএ চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান সে সময় বলেছিলেন, নতুন নিবন্ধনের জন্য আসা প্রতিটি গণপরিবহনে জিপিএস সংযুক্ত থাকতে হবে এবং একই নিয়ম ফিটনেস সনদ নবায়নের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। তিনি জানান, জিপিএস ডিভাইস সংযুক্ত ও কার্যকর আছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য বিআরটিএ নিজস্ব প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলছে। সড়ক পরিবহন বিশেষজ্ঞরা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও এর পূর্ণাঙ্গ কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণ, বর্তমান সরকারও ফ্যাসিবাদী পথে: জামায়াত

গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক: শৃঙ্খলা ফেরাতে বিগত সরকারের পদক্ষেপের কার্যকারিতা পর্যালোচনা

আপডেট সময় : ০৮:৫৭:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

দেশের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা জোরদারের লক্ষ্যে বিগত সময়ে সরকার সব গণপরিবহনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ডিভাইস স্থাপন ও সচল রাখা বাধ্যতামূলক করে। এই নিয়মটি গত বছর (বা বিগত বছর) ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সে সময় থেকে যেকোনো নতুন গণপরিবহনের নিবন্ধন কিংবা ফিটনেস সনদ প্রদান ও নবায়নের ক্ষেত্রে জিপিএস সংযুক্ত থাকার প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ডিভাইসটি সক্রিয় রয়েছে কি না, সেটিও প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক করা হয়।

বিগত সরকারের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে গণপরিবহনের চলাচল আরও কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ, রুট ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং সড়কে বিশৃঙ্খলা কমানো সম্ভব হবে। তবে বিশেষজ্ঞদের অভিমত ছিল, শুধু প্রযুক্তি সংযোজন করলেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না; এর সঙ্গে কার্যকর তদারকি, জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারও নিশ্চিত করতে হবে।

জিপিএস বাধ্যতামূলক করার অন্যতম কারণ ছিল যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতায় বাসের বেপরোয়া চলাচল, নির্ধারিত স্টপেজের বাইরে যাত্রী ওঠানামা এবং বিভিন্ন স্থানে একাধিক লেন দখল করে যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজট। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ার পাশাপাশি স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম খান সে সময় জানিয়েছিলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জিপিএস স্থাপনের চুক্তি সম্পন্ন হলেও ১ আগস্ট থেকেই সব যানবাহনে শতভাগ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না এবং পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আরও কিছু সময় লাগবে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জিপিএস সংযুক্ত ও সচল না থাকলে কোনো গণপরিবহন নতুন নিবন্ধন কিংবা ফিটনেস সনদ পাবে না এবং বিদ্যমান ফিটনেসও নবায়ন করা হবে না। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এ কারণে পরিবহন মালিক ও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিল। বিআরটিএ চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান সে সময় বলেছিলেন, নতুন নিবন্ধনের জন্য আসা প্রতিটি গণপরিবহনে জিপিএস সংযুক্ত থাকতে হবে এবং একই নিয়ম ফিটনেস সনদ নবায়নের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। তিনি জানান, জিপিএস ডিভাইস সংযুক্ত ও কার্যকর আছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য বিআরটিএ নিজস্ব প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলছে। সড়ক পরিবহন বিশেষজ্ঞরা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও এর পূর্ণাঙ্গ কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।