ঢাকা ১০:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

টেকনাফে রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকাডুবি: সাতজন নিখোঁজ, ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার

কক্সবাজারের টেকনাফে শাহপরীরদ্বীপ উপকূলের নিকটবর্তী বঙ্গোপসাগরে রোহিঙ্গা বোঝাই একটি নৌকা ডুবে গেছে। এই ঘটনায় অন্তত সাতজন রোহিঙ্গা নিখোঁজ রয়েছেন, তবে স্থানীয় জেলেদের তৎপরতায় ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

শুক্রবার (তারিখ উল্লেখ করা যেতে পারে, যদি জানা থাকে, অন্যথায় বাদ দিন) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়া নৌঘাট থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, নৌকাটি মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিল।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, প্রবল স্রোত এবং উত্তাল ঢেউয়ের কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকাটি ডুবে যায়। নৌকাডুবির দৃশ্য দেখে স্থানীয় জেলেরা দ্রুত দুটি ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার ট্রলার নিয়ে উদ্ধার অভিযানে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাদের প্রচেষ্টায় সাগর থেকে ১৮ জন রোহিঙ্গাকে জীবিত উদ্ধার করে শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়া নৌঘাটে নিয়ে আসা হয়।

প্রাথমিক তথ্য অনুসারে, নৌকাটিতে মোট ২৭ জন রোহিঙ্গা ছিলেন। উদ্ধার হওয়া ১৮ জনের মধ্যে চারজন রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের মাঝি (কমিউনিটি নেতা) এবং বাকি ১৪ জন উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা। উদ্ধার হওয়া চার মাঝি হলেন—উখিয়ার বালুখালী, জামতলী এবং টেকনাফের জাদিমুড়া ও শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা নুর আলম (৩৭), জাহেদ হোসেন (৪২), সৈয়দ নুর (২৭) ও নুর কামাল (৪০)।

উদ্ধার হওয়া সকল রোহিঙ্গাকে প্রথমে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর হেফাজতে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাদের টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। চিকিৎসা শেষে তাদের টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে বিজিবি ১৮ জন রোহিঙ্গাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং কারও শরীরে কোনো উল্লেখযোগ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

টেকনাফ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত জানিয়েছেন, বিজিবি ১৬ জন রোহিঙ্গাকে থানায় হস্তান্তর করেছে এবং বাকি দুজনকে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছিল। প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, আটক ব্যক্তিরা রোহিঙ্গা নাগরিক। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে যে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মিয়ানমারে সশস্ত্র সংগঠন আরসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণ, বর্তমান সরকারও ফ্যাসিবাদী পথে: জামায়াত

টেকনাফে রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকাডুবি: সাতজন নিখোঁজ, ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার

আপডেট সময় : ০৭:৫৩:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

কক্সবাজারের টেকনাফে শাহপরীরদ্বীপ উপকূলের নিকটবর্তী বঙ্গোপসাগরে রোহিঙ্গা বোঝাই একটি নৌকা ডুবে গেছে। এই ঘটনায় অন্তত সাতজন রোহিঙ্গা নিখোঁজ রয়েছেন, তবে স্থানীয় জেলেদের তৎপরতায় ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

শুক্রবার (তারিখ উল্লেখ করা যেতে পারে, যদি জানা থাকে, অন্যথায় বাদ দিন) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়া নৌঘাট থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, নৌকাটি মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিল।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, প্রবল স্রোত এবং উত্তাল ঢেউয়ের কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকাটি ডুবে যায়। নৌকাডুবির দৃশ্য দেখে স্থানীয় জেলেরা দ্রুত দুটি ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার ট্রলার নিয়ে উদ্ধার অভিযানে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাদের প্রচেষ্টায় সাগর থেকে ১৮ জন রোহিঙ্গাকে জীবিত উদ্ধার করে শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়া নৌঘাটে নিয়ে আসা হয়।

প্রাথমিক তথ্য অনুসারে, নৌকাটিতে মোট ২৭ জন রোহিঙ্গা ছিলেন। উদ্ধার হওয়া ১৮ জনের মধ্যে চারজন রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের মাঝি (কমিউনিটি নেতা) এবং বাকি ১৪ জন উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা। উদ্ধার হওয়া চার মাঝি হলেন—উখিয়ার বালুখালী, জামতলী এবং টেকনাফের জাদিমুড়া ও শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা নুর আলম (৩৭), জাহেদ হোসেন (৪২), সৈয়দ নুর (২৭) ও নুর কামাল (৪০)।

উদ্ধার হওয়া সকল রোহিঙ্গাকে প্রথমে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর হেফাজতে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাদের টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। চিকিৎসা শেষে তাদের টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে বিজিবি ১৮ জন রোহিঙ্গাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং কারও শরীরে কোনো উল্লেখযোগ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

টেকনাফ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত জানিয়েছেন, বিজিবি ১৬ জন রোহিঙ্গাকে থানায় হস্তান্তর করেছে এবং বাকি দুজনকে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছিল। প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, আটক ব্যক্তিরা রোহিঙ্গা নাগরিক। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে যে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মিয়ানমারে সশস্ত্র সংগঠন আরসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।