ঢাকা ১১:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

উখিয়ায় মার্কিন দূতের সামনে রোহিঙ্গাদের আকুতি: ‘নিজ দেশে ফিরতে চাই’

২০২৫ সালের ৩১শে জুলাই কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে এসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর। সে সময় তার গাড়িবহরের সামনে প্ল্যাকার্ড ও লিফলেট হাতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে নিজ দেশ মিয়ানমারে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার আকুতি জানিয়েছিলেন আশ্রিত রোহিঙ্গারা। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি তুলে ধরে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

উপস্থিত রোহিঙ্গা যুবক আহমদ উল্লাহ সে সময় বলেন, “বছরের পর বছর ধরে ক্যাম্পে আমাদের অনিশ্চিত জীবন কাটাতে হচ্ছে। নাগরিক অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করে দ্রুত আমরা নিজ দেশে ফিরে যেতে চাই। আমরা আর শরণার্থী হয়ে জীবন কাটাতে চাই না।”

রোহিঙ্গা অধিকারকর্মীরা সে সময় উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত নৃশংস ঘটনাকে প্রথমবারের মতো ‘গণহত্যা’ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এ অপরাধের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মনে করেন।

ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা (ইউসিআর)-এর সংগঠক মাস্টার সৈয়দ উল্লাহ বলেন, “আমরা বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞ। তবে কোনো মানুষ চিরকাল নিজের দেশ ছেড়ে অন্যের আশ্রয়ে থাকতে চায় না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে আমরা নিরাপদে আমাদের মাতৃভূমিতে ফিরতে পারি।” তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে কোনো প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হলে সেখানে অবশ্যই রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নাগরিকত্ব, সমঅধিকার, ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সুরক্ষার নিশ্চয়তা থাকতে হবে। পাশাপাশি এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গাদের অংশগ্রহণও নিশ্চিত করতে হবে।

উল্লেখ্য, সেদিন দুপুর ১২টার দিকে সার্জিও গোরের নেতৃত্বাধীন ১১ সদস্যের যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছে উখিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়। দুপুর ১টার দিকে উখিয়ায় পৌঁছে সংক্ষিপ্ত মধ্যাহ্ন বিরতির পর প্রতিনিধি দলটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শুরু করে। প্রতিনিধি দলে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতও উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ত্রিশালে ভাইয়ের জীবন বাঁচাতে গিয়ে দুই সহোদরের মর্মান্তিক সলিলসমাধি

উখিয়ায় মার্কিন দূতের সামনে রোহিঙ্গাদের আকুতি: ‘নিজ দেশে ফিরতে চাই’

আপডেট সময় : ১০:০৯:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

২০২৫ সালের ৩১শে জুলাই কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে এসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর। সে সময় তার গাড়িবহরের সামনে প্ল্যাকার্ড ও লিফলেট হাতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে নিজ দেশ মিয়ানমারে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার আকুতি জানিয়েছিলেন আশ্রিত রোহিঙ্গারা। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি তুলে ধরে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

উপস্থিত রোহিঙ্গা যুবক আহমদ উল্লাহ সে সময় বলেন, “বছরের পর বছর ধরে ক্যাম্পে আমাদের অনিশ্চিত জীবন কাটাতে হচ্ছে। নাগরিক অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করে দ্রুত আমরা নিজ দেশে ফিরে যেতে চাই। আমরা আর শরণার্থী হয়ে জীবন কাটাতে চাই না।”

রোহিঙ্গা অধিকারকর্মীরা সে সময় উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত নৃশংস ঘটনাকে প্রথমবারের মতো ‘গণহত্যা’ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এ অপরাধের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মনে করেন।

ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা (ইউসিআর)-এর সংগঠক মাস্টার সৈয়দ উল্লাহ বলেন, “আমরা বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞ। তবে কোনো মানুষ চিরকাল নিজের দেশ ছেড়ে অন্যের আশ্রয়ে থাকতে চায় না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে আমরা নিরাপদে আমাদের মাতৃভূমিতে ফিরতে পারি।” তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে কোনো প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হলে সেখানে অবশ্যই রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নাগরিকত্ব, সমঅধিকার, ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সুরক্ষার নিশ্চয়তা থাকতে হবে। পাশাপাশি এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গাদের অংশগ্রহণও নিশ্চিত করতে হবে।

উল্লেখ্য, সেদিন দুপুর ১২টার দিকে সার্জিও গোরের নেতৃত্বাধীন ১১ সদস্যের যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছে উখিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়। দুপুর ১টার দিকে উখিয়ায় পৌঁছে সংক্ষিপ্ত মধ্যাহ্ন বিরতির পর প্রতিনিধি দলটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শুরু করে। প্রতিনিধি দলে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতও উপস্থিত ছিলেন।