ঢাকা ১০:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

খুবির অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম যৌন হয়রানির অভিযোগে চাকরিচ্যুত

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) কর্তৃপক্ষ যৌন হয়রানির অভিযোগে অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রেজাউল ইসলামকে চাকরিচ্যুত করেছে। একই সঙ্গে বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. রুবেল আনসারের বিরুদ্ধে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৭তম সিন্ডিকেট সভায় এই দুটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এস. এম. মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, যৌন হয়রানি নিরোধকেন্দ্রের ২৩ ও ২৪ নম্বর মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে সিন্ডিকেট অধ্যাপক রুবেল আনসারের অভিযোগের বিষয়ে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি পৃথক উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক গঠিত একটি স্বাধীন কমিটি।

রেজিস্ট্রার আরও জানান, কমিটিতে দুজন সিন্ডিকেট সদস্য, একজন দক্ষ আইনজীবী, বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের লিগ্যাল সেলের পরিচালক সদস্য হিসেবে থাকবেন। কমিটিকে তদন্ত শেষ করে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, যৌন হয়রানির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অধ্যাপক রেজাউল ইসলামকে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্তও সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদন লাভ করেছে। উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এবং বিজয় ‘২৪ হলের নারী ওয়াশরুমে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগে এক ক্যান্টিনকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে শিক্ষার্থীরা বেশ কিছুদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন। এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমও বয়কট করেন। পরবর্তীতে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সর্বশেষ এই সিদ্ধান্তকে চলমান আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ এবং শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়নের উপর আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণ, বর্তমান সরকারও ফ্যাসিবাদী পথে: জামায়াত

খুবির অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম যৌন হয়রানির অভিযোগে চাকরিচ্যুত

আপডেট সময় : ০৭:৫২:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) কর্তৃপক্ষ যৌন হয়রানির অভিযোগে অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রেজাউল ইসলামকে চাকরিচ্যুত করেছে। একই সঙ্গে বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. রুবেল আনসারের বিরুদ্ধে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৭তম সিন্ডিকেট সভায় এই দুটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এস. এম. মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, যৌন হয়রানি নিরোধকেন্দ্রের ২৩ ও ২৪ নম্বর মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে সিন্ডিকেট অধ্যাপক রুবেল আনসারের অভিযোগের বিষয়ে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি পৃথক উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক গঠিত একটি স্বাধীন কমিটি।

রেজিস্ট্রার আরও জানান, কমিটিতে দুজন সিন্ডিকেট সদস্য, একজন দক্ষ আইনজীবী, বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের লিগ্যাল সেলের পরিচালক সদস্য হিসেবে থাকবেন। কমিটিকে তদন্ত শেষ করে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, যৌন হয়রানির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অধ্যাপক রেজাউল ইসলামকে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্তও সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদন লাভ করেছে। উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এবং বিজয় ‘২৪ হলের নারী ওয়াশরুমে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগে এক ক্যান্টিনকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে শিক্ষার্থীরা বেশ কিছুদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন। এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমও বয়কট করেন। পরবর্তীতে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সর্বশেষ এই সিদ্ধান্তকে চলমান আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ এবং শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়নের উপর আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।