ঢাকা ০২:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

নারীদের দক্ষতায় বিশ্ববাজারে রংপুরের তারাগঞ্জের জুতা

একসময় দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও মঙ্গার জন্য পরিচিত ছিল রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ঘনিরামপুর গ্রাম। বছরের একটি বড় সময় কাজের অভাবে অনেক পরিবার মানবেতর জীবন কাটাত। জীবিকার সন্ধানে পুরুষদের ছুটতে হতো দেশের বিভিন্ন জেলায়, আর গ্রামের নারীরা সীমাবদ্ধ ছিলেন গৃহস্থালির কাজেই। সময়ের ব্যবধানে সেই চিত্র এখন সম্পূর্ণ বদলে গেছে।

ভোরের আলো ফুটতেই শত শত নারী ছুটে যান কর্মস্থলে। তাদের দক্ষ হাতে তৈরি হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের সিনথেটিক জুতা যা রপ্তানি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি, পোল্যান্ড, তুরস্কসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। একসময় মঙ্গার প্রতীক হিসেবে পরিচিত ঘনিরামপুর আজ রপ্তানিমুখী শিল্প, কর্মসংস্থান ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের এক অনন্য উদাহরণ।

তারাগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে মহাসড়কের পাশে সাড়ে ৯ একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে রপ্তানিমুখী জুতা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস। প্রায় সাড়ে ২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগে প্রবাসফেরত দুই ভাই প্রয়াত সেলিম ও হাসানুজ্জামান হাসান ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে এখানে প্রায় তিন হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে, যার প্রায় ৮০ শতাংশই নারী।

কারখানার শ্রমিক কল্যাণ কর্মকর্তা জেসমিন আরা বলেন, কারখানা চালুর পর শুধু কর্মসংস্থানই বাড়েনি, বদলে গেছে এলাকার সামাজিক বাস্তবতাও। স্থানীয় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের হাজারো নারী এখন নিজের আয় দিয়ে পরিবারে অবদান রাখছেন। তাদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ, মাতৃত্বকালীন ছুটি, চিকিৎসাসেবা এবং দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হয়েছে।

কাটিং ইউনিটের শ্রমিক জয়ন্ত রানী বলেন, ‘শুরুর দিকে ভয় ছিল। কখনো ভাবিনি এ কাজ শিখতে পারব। এখন নিজের উপার্জনে সংসার চালাই, সন্তানদের পড়াশোনার খরচ দিই। ভবিষ্যতের জন্যও কিছু টাকা জমাতে পারছি।’ প্যাকেজিং ইউনিটের কর্মী আদুরি রানী জানান, আগে ঢাকায় চাকরি করলেও উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে সঞ্চয় করা সম্ভব হতো না। এখন গ্রামের বাড়িতে থেকেই কাজ করছেন। পরিবারের পাশে থাকার পাশাপাশি বাড়তি আয় দিয়ে গবাদিপশু পালনও শুরু করেছেন। লাভলী বেগম বলেন, ‘একসময় ধারদেনা ছাড়া সংসার চলত না। এখন নিয়মিত বেতন পাই। ঋণ শোধ করেছি। প্রতি মাসেই কিছু টাকা জমাতে পারি। সবচেয়ে বড় কথা, নিজের পরিচয়ে মাথা উঁচু করে চলতে পারছি।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৪ সালের জুলাই গণ _হত্যার বিচার ও সনদ বাস্তবায়নের দাবি শহীদ ফাইয়াজের বাবার

নারীদের দক্ষতায় বিশ্ববাজারে রংপুরের তারাগঞ্জের জুতা

আপডেট সময় : ১২:০৯:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

একসময় দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও মঙ্গার জন্য পরিচিত ছিল রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ঘনিরামপুর গ্রাম। বছরের একটি বড় সময় কাজের অভাবে অনেক পরিবার মানবেতর জীবন কাটাত। জীবিকার সন্ধানে পুরুষদের ছুটতে হতো দেশের বিভিন্ন জেলায়, আর গ্রামের নারীরা সীমাবদ্ধ ছিলেন গৃহস্থালির কাজেই। সময়ের ব্যবধানে সেই চিত্র এখন সম্পূর্ণ বদলে গেছে।

ভোরের আলো ফুটতেই শত শত নারী ছুটে যান কর্মস্থলে। তাদের দক্ষ হাতে তৈরি হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের সিনথেটিক জুতা যা রপ্তানি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি, পোল্যান্ড, তুরস্কসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। একসময় মঙ্গার প্রতীক হিসেবে পরিচিত ঘনিরামপুর আজ রপ্তানিমুখী শিল্প, কর্মসংস্থান ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের এক অনন্য উদাহরণ।

তারাগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে মহাসড়কের পাশে সাড়ে ৯ একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে রপ্তানিমুখী জুতা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস। প্রায় সাড়ে ২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগে প্রবাসফেরত দুই ভাই প্রয়াত সেলিম ও হাসানুজ্জামান হাসান ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে এখানে প্রায় তিন হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে, যার প্রায় ৮০ শতাংশই নারী।

কারখানার শ্রমিক কল্যাণ কর্মকর্তা জেসমিন আরা বলেন, কারখানা চালুর পর শুধু কর্মসংস্থানই বাড়েনি, বদলে গেছে এলাকার সামাজিক বাস্তবতাও। স্থানীয় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের হাজারো নারী এখন নিজের আয় দিয়ে পরিবারে অবদান রাখছেন। তাদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ, মাতৃত্বকালীন ছুটি, চিকিৎসাসেবা এবং দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হয়েছে।

কাটিং ইউনিটের শ্রমিক জয়ন্ত রানী বলেন, ‘শুরুর দিকে ভয় ছিল। কখনো ভাবিনি এ কাজ শিখতে পারব। এখন নিজের উপার্জনে সংসার চালাই, সন্তানদের পড়াশোনার খরচ দিই। ভবিষ্যতের জন্যও কিছু টাকা জমাতে পারছি।’ প্যাকেজিং ইউনিটের কর্মী আদুরি রানী জানান, আগে ঢাকায় চাকরি করলেও উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে সঞ্চয় করা সম্ভব হতো না। এখন গ্রামের বাড়িতে থেকেই কাজ করছেন। পরিবারের পাশে থাকার পাশাপাশি বাড়তি আয় দিয়ে গবাদিপশু পালনও শুরু করেছেন। লাভলী বেগম বলেন, ‘একসময় ধারদেনা ছাড়া সংসার চলত না। এখন নিয়মিত বেতন পাই। ঋণ শোধ করেছি। প্রতি মাসেই কিছু টাকা জমাতে পারি। সবচেয়ে বড় কথা, নিজের পরিচয়ে মাথা উঁচু করে চলতে পারছি।’