ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নতুন ভবনের অষ্টম তলা থেকে নিচে পড়ে রিয়া বেগম (২০) নামে এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি সিঙ্গাপুরপ্রবাসী এক ব্যক্তির স্ত্রী ছিলেন এবং কয়েক দিন ধরে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ ঘটনায় শাহবাগ থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের ৮০২ নম্বর ওয়ার্ডের বারান্দা থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন রিয়া। হাসপাতালের অন্যান্য রোগী ও স্বজনরা দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ভোর সোয়া ৫টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রিয়ার বাবা লতিফ মল্লিক জানান, জিহ্বায় ঘা, শারীরিক বিভিন্ন জটিলতা এবং মানসিক অস্থিরতার কারণে তিন দিন আগে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভোরে পাশের রোগীর স্বজনদের চিৎকার শুনে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তার দাবি, উপস্থিত সবাই রিয়াকে থামানোর চেষ্টা করলেও তিনি কারও কথা না শুনে নিচে পড়ে যান। নিচে থাকা একটি ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন।
লতিফ মল্লিক আরো জানান, এসএসসি পাসের পর প্রায় সাড়ে চার বছর আগে সিঙ্গাপুরপ্রবাসী আল-আমিনের সঙ্গে রিয়ার বিয়ে হয়। স্বামী প্রায় দুই বছর আগে বিদেশে ফিরে যাওয়ার পর সন্তান না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলে পরিবারের দাবি। গত কয়েক দিনে তার আচরণে অস্বাভাবিকতা আরো বেড়ে যায়। তিনি কখনও অসংলগ্ন কথা বলতেন, আবার কখনও জিজ্ঞেস করতেন, ‘এটা কোন দেশ? আমি কোথায় আছি?’
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, রিয়ার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি শাহবাগ থানাকে জানানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
রিয়ার বাড়ি পাবনা সদর উপজেলার ভাদুরডাঙ্গি গ্রামে। তার বাবা লতিফ মল্লিক। স্বামী আল-আমিন সিঙ্গাপুরে কর্মরত। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে রিয়া ছিলেন বড়।
রিপোর্টারের নাম 





















