বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, দুর্নীতি বন্ধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনার নৈতিক অধিকার হারিয়েছে। তিনি বলেন, “পাঁচ মাসের এই সরকারের সময়ে দুর্নীতি বন্ধ করা যায়নি, বরং বেড়েছে। তারেক রহমান ছাড়া সবাই দুর্নীতিতে লিপ্ত।”
জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চান না, অথচ দুর্নীতি সবাই করে—এটা কীভাবে সম্ভব? আমরা দেখি, তার ইশারায় সব চলে। তাহলে তার ইশারায় এটা বন্ধ হয় না কেন?”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ব্যর্থতার দায় যখন স্বীকার করলেন, তখন এই সরকারের আর ক্ষমতায় থাকার নৈতিকতা থাকে? নৈতিক দিক থেকে সরকার দেশ পরিচালনার অধিকার হারিয়েছে। তিনি তো প্রেসের সামনে খোলাখুলিভাবে বলেছেন, এটি কোনো গোপন কথা নয়। এটাই এই সরকারের আমলের বাস্তব চিত্র।”
তিনি আরো বলেন, “জাতীয় সংসদের সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি গদিতে বসে বলছেন, সমঝোতার ভিত্তিতে কিছু নেওয়া হলে তাকে চাঁদাবাজি বলা যাবে না। তাদেরই একজন হুইপ বলেছেন, দেশের বাইরে থেকে যে-ই আসুক, চাঁদাবাজি বন্ধ হবে না। বর্তমান সরকার এটি কিছুটা কমানোর চেষ্টা করছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চাঁদাবাজিকে দ্বিতীয় দফায় জাতীয় সনদ বা স্বীকৃতি দেওয়া হলো।”
তিনি বলেন, “তারা কোটি কোটি মানুষকে চাকরি দেওয়ার কথা বলেছেন। চাকরি তো দিয়েই ফেলেছেন—“টেম্পোস্ট্যান্ডের চাকরি”। এই চাকরি জনগণ চায় না, বরং ঘৃণা করে।” ফেডারেশনের ১২ দফা দাবি প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এই দাবিগুলো তুলতে হচ্ছে, কারণ সমাজে অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি; বরং অধিকার নিয়ে কাড়াকাড়ি চলছে। পরিবহন শ্রমিকরা চাঁদাবাজদের হাতে নাজেহাল হচ্ছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাদের ওপর বিপদ নেমে আসে; তাদের মারধর করা হয় এবং গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এসব মূলত সরকারি দলের লোকেরাই করছে।” তিনি বলেন, “এই সরকারের ভেতরেই ভূত আছে। আর সরিষার মধ্যেই যদি ভূত থাকে…”
রিপোর্টারের নাম 





















