ঢাকা ০৩:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

ট্রাম্পের নেতৃত্বে হামাসমুক্ত গাজার শাসন কাঠামো ঘোষণা

হামাসকে নিরস্ত্র করা এবং গাজার শাসনভার একটি অরাজনৈতিক বেসামরিক সংস্থার কাছে হস্তান্তরের লক্ষ্যে ‘গাজা বোর্ড অব পিস’ একটি যুগান্তকারী রূপরেখা ঘোষণা করেছে। যুদ্ধপরবর্তী গাজার স্থিতিশীলতা, পুনর্গঠন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার জন্য এই রূপরেখায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা ও গোষ্ঠীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

রূপরেখার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা, যার আজীবন চেয়ারম্যান পদে থাকবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই বোর্ড যুদ্ধপরবর্তী গাজার উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত পরিকল্পনা, স্থিতিশীলতা রক্ষা ও পুনর্গঠন তহবিলের মূল তদারকি করবে।

সাত সদস্যের একটি ‘ফাউন্ডিং এক্সিকিউটিভ বোর্ড’ গঠন করা হবে, যার নেতৃত্বে থাকবেন যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। এই বোর্ডের কাজ হবে ‘বোর্ড অব পিস’-এর মূল লক্ষ্য বাস্তবায়ন ও কাজের এজেন্ডা নির্ধারণ করা। সম্ভাব্য অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গ।

এছাড়াও, একটি ‘গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ড’ দ্বিতীয় পর্যায়ের পরিচালন পর্ষদ হিসেবে কাজ করবে। গাজার পুনর্গঠনকাজ সরাসরি পরিচালনা করা এবং আঞ্চলিক কূটনীতিকদের সঙ্গে সমন্বয় করাই হবে এর প্রধান দায়িত্ব। ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ নামে একটি অরাজনৈতিক এবং প্রযুক্তিবিদদের সমন্বয়ে গঠিত ফিলিস্তিনি কমিটি গাজা উপত্যকার দৈনন্দিন বেসামরিক প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করবে। এতে হামাসের কোনো অংশগ্রহণ থাকবে না।

যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য মিত্র দেশগুলোর সমর্থনে একটি বহুজাতিক ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ গঠিত হবে। এরা নতুন গঠিত স্থানীয় পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে মিলে এলাকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করবে। এই বাহিনীতে ইন্দোনেশিয়া ও মরক্কোর মতো দেশগুলো যুক্ত হতে পারে, যারা পুলিশ প্রশিক্ষণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। হামাস যেসব এলাকা থেকে সরে দাঁড়াবে, সেসব এলাকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নেবে সদ্য গঠিত এই স্থানীয় পুলিশ বাহিনী। তবে, গাজার নতুন এই পুলিশ ইউনিটে সদস্য নিয়োগ ও বাছাই প্রক্রিয়ার মানদণ্ড নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়ে গেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বেলুচিস্তানের কয়লাখনিতে বিস্ফোরণে ৩২ শ্রমিক নিহত, ১০ জন নিখোঁজ

ট্রাম্পের নেতৃত্বে হামাসমুক্ত গাজার শাসন কাঠামো ঘোষণা

আপডেট সময় : ০১:১৩:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

হামাসকে নিরস্ত্র করা এবং গাজার শাসনভার একটি অরাজনৈতিক বেসামরিক সংস্থার কাছে হস্তান্তরের লক্ষ্যে ‘গাজা বোর্ড অব পিস’ একটি যুগান্তকারী রূপরেখা ঘোষণা করেছে। যুদ্ধপরবর্তী গাজার স্থিতিশীলতা, পুনর্গঠন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার জন্য এই রূপরেখায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা ও গোষ্ঠীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

রূপরেখার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা, যার আজীবন চেয়ারম্যান পদে থাকবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই বোর্ড যুদ্ধপরবর্তী গাজার উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত পরিকল্পনা, স্থিতিশীলতা রক্ষা ও পুনর্গঠন তহবিলের মূল তদারকি করবে।

সাত সদস্যের একটি ‘ফাউন্ডিং এক্সিকিউটিভ বোর্ড’ গঠন করা হবে, যার নেতৃত্বে থাকবেন যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। এই বোর্ডের কাজ হবে ‘বোর্ড অব পিস’-এর মূল লক্ষ্য বাস্তবায়ন ও কাজের এজেন্ডা নির্ধারণ করা। সম্ভাব্য অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গ।

এছাড়াও, একটি ‘গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ড’ দ্বিতীয় পর্যায়ের পরিচালন পর্ষদ হিসেবে কাজ করবে। গাজার পুনর্গঠনকাজ সরাসরি পরিচালনা করা এবং আঞ্চলিক কূটনীতিকদের সঙ্গে সমন্বয় করাই হবে এর প্রধান দায়িত্ব। ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ নামে একটি অরাজনৈতিক এবং প্রযুক্তিবিদদের সমন্বয়ে গঠিত ফিলিস্তিনি কমিটি গাজা উপত্যকার দৈনন্দিন বেসামরিক প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করবে। এতে হামাসের কোনো অংশগ্রহণ থাকবে না।

যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য মিত্র দেশগুলোর সমর্থনে একটি বহুজাতিক ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ গঠিত হবে। এরা নতুন গঠিত স্থানীয় পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে মিলে এলাকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করবে। এই বাহিনীতে ইন্দোনেশিয়া ও মরক্কোর মতো দেশগুলো যুক্ত হতে পারে, যারা পুলিশ প্রশিক্ষণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। হামাস যেসব এলাকা থেকে সরে দাঁড়াবে, সেসব এলাকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নেবে সদ্য গঠিত এই স্থানীয় পুলিশ বাহিনী। তবে, গাজার নতুন এই পুলিশ ইউনিটে সদস্য নিয়োগ ও বাছাই প্রক্রিয়ার মানদণ্ড নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়ে গেছে।