ঢাকা ০৩:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

বাঁশখালীর বন্যাদুর্গতদের নতুন ঘর নির্মাণে জেলা প্রশাসকের আশ্বাস

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বাঁশখালীর বন্যাদুর্গত গৃহহীন পরিবারগুলোকে দ্রুত নতুন ঘর নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন। সম্প্রতি ‘আমার দেশ’ পত্রিকায় ‘বাঁশখালীতে খোলা আকাশের নিচে বন্যায় গৃহহীন মানুষ’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশের পর তিনি এই আশ্বাস দেন।

বৃহস্পতিবার তিনি সরেজমিনে বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। টানা ৭ থেকে ১০ দিন ধরে পানি জমে থাকায় ওইসব এলাকার মাটির তৈরি বাড়িগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অধিকাংশই ভেঙে পানিতে মিশে গেছে। বর্তমানে অনেক মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অর্ধভাঙা ঘরে বসবাস করছেন, যা যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

দুর্গত মানুষের মানবিক পরিস্থিতি দেখে জেলা প্রশাসক গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন এবং প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের সাথে সরাসরি কথা বলে তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। পরিবারের সদস্য সংখ্যা, তাদের পুনর্বাসনের প্রত্যাশা এবং বাড়ি তৈরির সুবিধাজনক উপকরণ ও ডিজাইন বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছ থেকে বিস্তারিত মতামত সংগ্রহ করেন।

পুনর্বাসন প্রক্রিয়াকে নিখুঁত ও বাস্তবসম্মত করতে জেলা প্রশাসক স্থানীয় কাঠমিস্ত্রিদের সঙ্গে কথা বলে নতুন ঘর তৈরির সম্ভাব্য খরচ, নির্মাণ উপকরণের মান ও স্থায়িত্ব সম্পর্কে অবগত হন। তিনি নিশ্চিত হন যে নতুন ঘর নির্মাণ করা হলে দুর্গতরা সেখানে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারবেন। এ সময় তিনি বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রুহুল আমিন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে পুনর্বাসনের সার্বিক কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন।

ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর আশ্বাস দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এভাবে জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করা অত্যন্ত দুঃখজনক। সরকারের পক্ষ থেকে খুব দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের জন্য নিরাপদ নতুন ঘর নির্মাণ নিশ্চিত করা হবে।’ পরিদর্শনকালে তার সাথে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মাইনুদ্দিন হাসান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বেলুচিস্তানের কয়লাখনিতে বিস্ফোরণে ৩২ শ্রমিক নিহত, ১০ জন নিখোঁজ

বাঁশখালীর বন্যাদুর্গতদের নতুন ঘর নির্মাণে জেলা প্রশাসকের আশ্বাস

আপডেট সময় : ০১:১৩:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বাঁশখালীর বন্যাদুর্গত গৃহহীন পরিবারগুলোকে দ্রুত নতুন ঘর নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন। সম্প্রতি ‘আমার দেশ’ পত্রিকায় ‘বাঁশখালীতে খোলা আকাশের নিচে বন্যায় গৃহহীন মানুষ’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশের পর তিনি এই আশ্বাস দেন।

বৃহস্পতিবার তিনি সরেজমিনে বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। টানা ৭ থেকে ১০ দিন ধরে পানি জমে থাকায় ওইসব এলাকার মাটির তৈরি বাড়িগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অধিকাংশই ভেঙে পানিতে মিশে গেছে। বর্তমানে অনেক মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অর্ধভাঙা ঘরে বসবাস করছেন, যা যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

দুর্গত মানুষের মানবিক পরিস্থিতি দেখে জেলা প্রশাসক গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন এবং প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের সাথে সরাসরি কথা বলে তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। পরিবারের সদস্য সংখ্যা, তাদের পুনর্বাসনের প্রত্যাশা এবং বাড়ি তৈরির সুবিধাজনক উপকরণ ও ডিজাইন বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছ থেকে বিস্তারিত মতামত সংগ্রহ করেন।

পুনর্বাসন প্রক্রিয়াকে নিখুঁত ও বাস্তবসম্মত করতে জেলা প্রশাসক স্থানীয় কাঠমিস্ত্রিদের সঙ্গে কথা বলে নতুন ঘর তৈরির সম্ভাব্য খরচ, নির্মাণ উপকরণের মান ও স্থায়িত্ব সম্পর্কে অবগত হন। তিনি নিশ্চিত হন যে নতুন ঘর নির্মাণ করা হলে দুর্গতরা সেখানে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারবেন। এ সময় তিনি বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রুহুল আমিন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে পুনর্বাসনের সার্বিক কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন।

ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর আশ্বাস দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এভাবে জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করা অত্যন্ত দুঃখজনক। সরকারের পক্ষ থেকে খুব দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের জন্য নিরাপদ নতুন ঘর নির্মাণ নিশ্চিত করা হবে।’ পরিদর্শনকালে তার সাথে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মাইনুদ্দিন হাসান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক উপস্থিত ছিলেন।