ঢাকা ০২:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

অব্যাহত বকেয়া ও প্রভাবশালীদের দাপটে ঝালকাঠি বিসিক শিল্পনগরীর সম্ভাবনা ম্লান

ঝালকাঠি বিসিক শিল্পনগরীতে বরাদ্দকৃত জমির কিস্তির প্রায় দেড় কোটি টাকা পরিশোধ না করা সত্ত্বেও ফরচুন গ্রুপের নামে বরাদ্দকৃত ২৫টি প্লট এখনো বাতিল করেনি বিসিক কর্তৃপক্ষ। নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, সৈনিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও বরিশাল মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ফরচুন সুজ কোম্পানির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান তৎকালীন শিল্পমন্ত্রীর প্রভাব খাটিয়ে সরাসরি মন্ত্রণালয় থেকে এসব প্লটের বরাদ্দ নিয়েছিলেন। শিল্পনগরীতে ফরচুন গ্রুপের বকেয়া পরিশোধের নোটিশসহ বিভিন্ন উদ্যোগ সত্ত্বেও মালিকপক্ষের কোনো সাড়া মেলেনি।

এর আগেও শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ফরচুন সুজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে লভ্যাংশ বিতরণ না করা এবং তালিকাভুক্তি ফি পরিশোধে ব্যর্থতার অভিযোগে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান, পরিচালক ও কর্মকর্তাদের বড় অঙ্কের জরিমানা আরোপ করেছিল এবং বকেয়া ফি পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছিল।

বিসিকের মতো একটি প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বরাদ্দ বাতিলসহ দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির জবাবদিহি ও ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলের শিল্পায়নের যে স্বপ্ন নিয়ে ঝালকাঠি বিসিক শিল্পনগরী গড়ে উঠেছিল, প্রভাবশালী মহলের দখল, বকেয়া আদায়ে ব্যর্থতা এবং প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তায় সেই সম্ভাবনা এখন অনেকটাই ফিকে হয়ে এসেছে। বিসিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে ৭৯টি প্লটের মধ্যে ফরচুন গ্রুপের নামে ২৫টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, যা মোট প্লটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। বরাদ্দকৃত প্লটে শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের লেআউট দাখিল এবং জমির কিস্তির টাকা বাবদ ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা এখনো বকেয়া রয়েছে। বর্তমানে এখানে কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে না ওঠায় প্লটগুলো ফাঁকা পড়ে আছে।

শিল্পনগরীর অপর ৫৪টি প্লটের মধ্যে মাত্র ২৮টি প্লটে ১১টি শিল্প ইউনিট উৎপাদন শুরু করেছে। বাকি ২৬টি প্লট বরাদ্দ দেখানো হলেও বর্তমানে ফাঁকা পড়ে আছে। উদ্যোক্তারা আগ্রহী না হওয়ায় আরও পাঁচটি প্লটের বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, ৭৯টি প্লটের মধ্যে ফরচুনের ২৫টি এবং অন্যান্য ২৬টিসহ মোট ৫১টি প্লটই অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। বাকিগুলোর মধ্যে দুই-একটি ছাড়া অধিকাংশ প্লটের কার্যক্রম চলছে কোনোমতে। ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিল্পনগরীর মোট জমির পরিমাণ… (তথ্য অসম্পূর্ণ)

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৪ সালের জুলাই গণ _হত্যার বিচার ও সনদ বাস্তবায়নের দাবি শহীদ ফাইয়াজের বাবার

অব্যাহত বকেয়া ও প্রভাবশালীদের দাপটে ঝালকাঠি বিসিক শিল্পনগরীর সম্ভাবনা ম্লান

আপডেট সময় : ১২:০৯:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

ঝালকাঠি বিসিক শিল্পনগরীতে বরাদ্দকৃত জমির কিস্তির প্রায় দেড় কোটি টাকা পরিশোধ না করা সত্ত্বেও ফরচুন গ্রুপের নামে বরাদ্দকৃত ২৫টি প্লট এখনো বাতিল করেনি বিসিক কর্তৃপক্ষ। নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, সৈনিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও বরিশাল মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ফরচুন সুজ কোম্পানির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান তৎকালীন শিল্পমন্ত্রীর প্রভাব খাটিয়ে সরাসরি মন্ত্রণালয় থেকে এসব প্লটের বরাদ্দ নিয়েছিলেন। শিল্পনগরীতে ফরচুন গ্রুপের বকেয়া পরিশোধের নোটিশসহ বিভিন্ন উদ্যোগ সত্ত্বেও মালিকপক্ষের কোনো সাড়া মেলেনি।

এর আগেও শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ফরচুন সুজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে লভ্যাংশ বিতরণ না করা এবং তালিকাভুক্তি ফি পরিশোধে ব্যর্থতার অভিযোগে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান, পরিচালক ও কর্মকর্তাদের বড় অঙ্কের জরিমানা আরোপ করেছিল এবং বকেয়া ফি পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছিল।

বিসিকের মতো একটি প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বরাদ্দ বাতিলসহ দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির জবাবদিহি ও ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলের শিল্পায়নের যে স্বপ্ন নিয়ে ঝালকাঠি বিসিক শিল্পনগরী গড়ে উঠেছিল, প্রভাবশালী মহলের দখল, বকেয়া আদায়ে ব্যর্থতা এবং প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তায় সেই সম্ভাবনা এখন অনেকটাই ফিকে হয়ে এসেছে। বিসিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে ৭৯টি প্লটের মধ্যে ফরচুন গ্রুপের নামে ২৫টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, যা মোট প্লটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। বরাদ্দকৃত প্লটে শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের লেআউট দাখিল এবং জমির কিস্তির টাকা বাবদ ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা এখনো বকেয়া রয়েছে। বর্তমানে এখানে কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে না ওঠায় প্লটগুলো ফাঁকা পড়ে আছে।

শিল্পনগরীর অপর ৫৪টি প্লটের মধ্যে মাত্র ২৮টি প্লটে ১১টি শিল্প ইউনিট উৎপাদন শুরু করেছে। বাকি ২৬টি প্লট বরাদ্দ দেখানো হলেও বর্তমানে ফাঁকা পড়ে আছে। উদ্যোক্তারা আগ্রহী না হওয়ায় আরও পাঁচটি প্লটের বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, ৭৯টি প্লটের মধ্যে ফরচুনের ২৫টি এবং অন্যান্য ২৬টিসহ মোট ৫১টি প্লটই অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। বাকিগুলোর মধ্যে দুই-একটি ছাড়া অধিকাংশ প্লটের কার্যক্রম চলছে কোনোমতে। ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিল্পনগরীর মোট জমির পরিমাণ… (তথ্য অসম্পূর্ণ)