সিলেট: জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বর্তমান বিএনপি সরকার যদি নিখোঁজ নেতা এম ইলিয়াস আলীর চেতনা ও গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করত, তাহলে গুমবিরোধী অধ্যাদেশ বাতিলের মতো সিদ্ধান্ত নিত না। গুমের বিচার, সত্য উদ্ঘাটন এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পরিবর্তে এ ধরনের সিদ্ধান্ত জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আয়োজিত পদযাত্রা-পরবর্তী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, এই জনপদ মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক মোহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানী এবং ভারতীয় আধিপত্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা এম ইলিয়াস আলীর এলাকা। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলতে চাই, ইলিয়াস আলী টিপাইমুখ বাঁধবিরোধী আন্দোলনসহ ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। সেই আন্দোলনের কারণেই তিনি গুমের শিকার হন।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের যোদ্ধারা এবং এনসিপি ইলিয়াস আলীর সেই চেতনাকেই ধারণ করে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বর্তমান সরকার, ইলিয়াস আলীর দলের সরকার হয়েও তার দলের নেতার আদর্শ ধারণ করছে না। যদি করত, তাহলে গুমবিরোধী অধ্যাদেশ বাতিল করার সাহস করতে পারত না।’ এনসিপি বিশ্বাস করে, ইলিয়াস আলীর গুম বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায়। গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষ আশা করেছিল, নতুন বাংলাদেশে আর কোনো গুমের ঘটনা ঘটবে না। কিন্তু দুঃখের বিষয়, গুম কমিশনকে কার্যত পাশ কাটিয়ে আবারও গুমের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
তিনি কুড়িগ্রাম, সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও হবিগঞ্জে এনসিপির নেতাকর্মী এবং গাড়িবহরে হামলার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘হবিগঞ্জে বিএনপির সন্ত্রাসীরা এক কলেজছাত্রের চোখ উপড়ে দিয়ে তাকে সারা জীবনের জন্য অন্ধ করে দিয়েছে। বিএনপি যদি তাদের তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয় এবং বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে দমন-পীড়ন অব্যাহত রাখে, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে সরকারের জন্যও এর নেতিবাচক পরিণতি তৈরি হবে। আমরা চাই হামলায় আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত হোক, গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হোক।’
রিপোর্টারের নাম 




















