ঢাকা ০১:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকার: যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও আমিরাতের উত্থান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০০:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

পৃথিবীর বিশাল অংশ দখল ও শোষণ করার অর্থ যদি সাফল্য হয়, তবে নিঃসন্দেহে বলা যায়, ৩০০ বছরের মধ্যে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ছিল সবচেয়ে সফল ঔপনিবেশিক ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তি। ১৯৪৭ থেকে ১৯৬৭ এই দুই দশকের মধ্যে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের কার্যত সমাপ্তি ঘটলেও আধুনিক বিশ্বের ওপর এর প্রভাব এখনো দৃশ্যমান। ইউরোপের অন্য সাবেক ঔপনিবেশিক শক্তিগুলো তাদের সাম্রাজ্যবাদী বিজয়ের ইতিহাসকে পেছনে ফেলে নিজেদের ‘মাঝারি শক্তির’ বর্তমান মর্যাদা মেনে নিয়েছে। কিন্তু ব্রিটেনের ক্ষেত্রে এমনটা বলা যায় না।

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পতনের প্রাক্কালে চাপিয়ে দেওয়া সর্বশেষ বড় দুটি বিপর্যয় ছিল ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজন, যার ফলে ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু ও ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়, এবং ইসরাইলের সৃষ্টি। ইসরাইল জাতিসংঘের প্রধান শক্তিগুলোর সমর্থনে হলেও আরব দেশগুলোর বিরোধিতার মুখে পড়েছিল, কারণ যে অঞ্চলে এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, তা ছিল তাদেরই ভূখণ্ড এবং এর ফলে ১৯৪৮ সালে ৭ লাখ ৫০ হাজার ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়।

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিলুপ্তি ঘটলেও এর গর্ভ থেকে উঠে আসা তিনটি রাষ্ট্র—যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত—একবিংশ শতাব্দীর বিশ্ব রাজনীতিতে জোরালো প্রভাব ফেলেছে। দেশ তিনটির সরকার ও সামাজিক ব্যবস্থা পরস্পরের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন হলেও এদের মধ্যে কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্র দাস-শ্রমনির্ভর কৃষি-অর্থনীতি থেকে বিবর্তিত হয়ে শিল্প-সমৃদ্ধ বিশ্বশক্তি হিসেবে গড়ে উঠেছে। ইসরাইল বসতি স্থাপনকারীদের অর্থনীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে প্রযুক্তি ও সামরিক পরাশক্তি হিসেবে। এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত জেলেপল্লির সমষ্টি থেকে অতিধনী ব্যক্তিদের জন্য বিশ্বের শীর্ষ গন্তব্য ও আঞ্চলিক সামরিক শক্তিধর একটি রাষ্ট্র হয়ে উঠেছে।

তাছাড়া, দেশ তিনটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী প্রকল্পের অন্তর্নিহিত জাতিগত শ্রেণিবিন্যাস ও ঔপনিবেশিক শাসনপদ্ধতিকেই যেন আবার প্রতিষ্ঠিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সামরিক শক্তিতে বলীয়ান হয়ে প্রতিবেশী এবং আদিবাসীদের ভূখণ্ডে সহিংসভাবে নিজেদের সীমানা বিস্তার করেছে। সম্প্রতি আরব আমিরাতও এই দলে যোগ দিয়েছে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের আরেকটি অনুরূপ শাসনব্যবস্থা ছিল বর্ণবাদী দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে বিশ্বব্যাপী বর্ণবাদবিরোধী সংগ্রামের সহায়তায় দেশটিতে সেই ব্যবস্থার অবসান ঘটেছে। যুক্তরাজ্য নিজের সাম্রাজ্য হারালেও বিশ্বকে দিয়ে…

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে পুত্রবধূ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে শাশুড়ির নির্যাতনের অভিযোগ

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকার: যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও আমিরাতের উত্থান

আপডেট সময় : ১১:০০:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

পৃথিবীর বিশাল অংশ দখল ও শোষণ করার অর্থ যদি সাফল্য হয়, তবে নিঃসন্দেহে বলা যায়, ৩০০ বছরের মধ্যে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ছিল সবচেয়ে সফল ঔপনিবেশিক ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তি। ১৯৪৭ থেকে ১৯৬৭ এই দুই দশকের মধ্যে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের কার্যত সমাপ্তি ঘটলেও আধুনিক বিশ্বের ওপর এর প্রভাব এখনো দৃশ্যমান। ইউরোপের অন্য সাবেক ঔপনিবেশিক শক্তিগুলো তাদের সাম্রাজ্যবাদী বিজয়ের ইতিহাসকে পেছনে ফেলে নিজেদের ‘মাঝারি শক্তির’ বর্তমান মর্যাদা মেনে নিয়েছে। কিন্তু ব্রিটেনের ক্ষেত্রে এমনটা বলা যায় না।

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পতনের প্রাক্কালে চাপিয়ে দেওয়া সর্বশেষ বড় দুটি বিপর্যয় ছিল ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজন, যার ফলে ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু ও ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়, এবং ইসরাইলের সৃষ্টি। ইসরাইল জাতিসংঘের প্রধান শক্তিগুলোর সমর্থনে হলেও আরব দেশগুলোর বিরোধিতার মুখে পড়েছিল, কারণ যে অঞ্চলে এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, তা ছিল তাদেরই ভূখণ্ড এবং এর ফলে ১৯৪৮ সালে ৭ লাখ ৫০ হাজার ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়।

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিলুপ্তি ঘটলেও এর গর্ভ থেকে উঠে আসা তিনটি রাষ্ট্র—যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত—একবিংশ শতাব্দীর বিশ্ব রাজনীতিতে জোরালো প্রভাব ফেলেছে। দেশ তিনটির সরকার ও সামাজিক ব্যবস্থা পরস্পরের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন হলেও এদের মধ্যে কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্র দাস-শ্রমনির্ভর কৃষি-অর্থনীতি থেকে বিবর্তিত হয়ে শিল্প-সমৃদ্ধ বিশ্বশক্তি হিসেবে গড়ে উঠেছে। ইসরাইল বসতি স্থাপনকারীদের অর্থনীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে প্রযুক্তি ও সামরিক পরাশক্তি হিসেবে। এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত জেলেপল্লির সমষ্টি থেকে অতিধনী ব্যক্তিদের জন্য বিশ্বের শীর্ষ গন্তব্য ও আঞ্চলিক সামরিক শক্তিধর একটি রাষ্ট্র হয়ে উঠেছে।

তাছাড়া, দেশ তিনটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী প্রকল্পের অন্তর্নিহিত জাতিগত শ্রেণিবিন্যাস ও ঔপনিবেশিক শাসনপদ্ধতিকেই যেন আবার প্রতিষ্ঠিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সামরিক শক্তিতে বলীয়ান হয়ে প্রতিবেশী এবং আদিবাসীদের ভূখণ্ডে সহিংসভাবে নিজেদের সীমানা বিস্তার করেছে। সম্প্রতি আরব আমিরাতও এই দলে যোগ দিয়েছে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের আরেকটি অনুরূপ শাসনব্যবস্থা ছিল বর্ণবাদী দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে বিশ্বব্যাপী বর্ণবাদবিরোধী সংগ্রামের সহায়তায় দেশটিতে সেই ব্যবস্থার অবসান ঘটেছে। যুক্তরাজ্য নিজের সাম্রাজ্য হারালেও বিশ্বকে দিয়ে…