বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও কওমি অঙ্গনের বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদের অনুসারীদের বর্তমান কর্মকাণ্ড নিয়ে আলেম সমাজে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিতর্কিত ‘শাহবাগী আলেম’ হিসেবে পরিচিত ফরীদ উদ্দীন মাসউদ ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকলেও তার সহযোগীরা এখনো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি রাজধানীর আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ-এর কার্যালয়ে ‘কওমি মাদরাসাবিরোধী অপপ্রচার রোধ ও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয়’ শীর্ষক একটি উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় ফরীদ উদ্দীন মাসউদের অত্যন্ত আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ও তার শিক্ষাবোর্ডের সেক্রেটারি মুফতি মোহাম্মদ আলীর উপস্থিতি নিয়ে সাধারণ আলেমদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মুফতি মোহাম্মদ আলী বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিভিন্ন মন্ত্রী ও প্রভাবশালী নেতাদের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করতেন এবং বর্তমানেও তিনি কওমি অঙ্গনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নিজের অবস্থান স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান চলাকালে মিরপুরে শিক্ষার্থী রিতা আক্তার নিহতের ঘটনায় ফরীদ উদ্দীন মাসউদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এছাড়া, গত জুলাই মাসে মধুপুর পীর সাহেবের মাদরাসায় অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকেও বিগত সরকারের দোসর হিসেবে পরিচিত বেশ কয়েকজন আলেমকে দেখা গিয়েছিল, যা নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়।
আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসানের নির্দেশক্রমে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন আল্লামা শেখ সাজিদুর রহমান। সভায় বক্তারা যেকোনো অপরাধ বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। বর্তমান নির্বাচিত সরকারের আমলে কওমি অঙ্গনকে কলঙ্কমুক্ত করতে বিগত সরকারের সুবিধাভোগীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রিপোর্টারের নাম 

























