ঢাকা ০১:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

জাপানে শক্তিশালী ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩: উদ্ধার তৎপরতা জোরদার

জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান দ্বীপ কিউশুর কুমামোতো এলাকায় আঘাত হানা ভয়াবহ ও শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। বুধবার (২৯ জুলাই) জাপানি প্রশাসনের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এপি নিউজ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া নিখোঁজদের উদ্ধারে রাতভর টানা চিরুনি অভিযান চালানো হয়েছে এবং বিপজ্জনক পরিস্থিতিতেও উদ্ধারকাজ এখনো পূর্ণ গতিতে চলছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এক জরুরি ব্রিফিংয়ে জানান, এখন পর্যন্ত ১৩ জন মারা যাওয়ার বিষাদময় তথ্য পাওয়া গেলেও আহত মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। পাশাপাশি বেশ কয়েকজন নাগরিক এখনো নিখোঁজ অবস্থায় বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিখোঁজ সকলকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের এখন প্রথম ও প্রধান অগ্রাধিকার।

এর আগে গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলের দিকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় কুমামোতো প্রশাসনিক অঞ্চলে হঠাৎ ৭.১ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূকম্পনের ভয়াবহ তীব্রতায় কাশিমা শহরের জনপ্রিয় ‘এইয়ন মল’ নামক একটি বিশাল শপিং সেন্টারের দ্বিতীয় তলার অবকাঠামো মুহূর্তেই ধসে পড়ে। স্থানীয় উদ্ধারকারী কর্মকর্তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ভূমিকম্পের ধাক্কায় গ্যাস লাইন লিকেজের ফলে বিস্ফোরণ ঘটে এই ধ্বংসাত্মক ধসের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। দমকল বিভাগের কর্মীরা জানিয়েছেন, শপিং সেন্টারটির সেই ধসে যাওয়া অংশের নিচে বেশ কয়েকজন সাধারণ ক্রেতা ও কর্মী এখনো আটকে আছেন।

ভূমিকম্পে শিল্পাঞ্চলগুলোতেও ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। বিখ্যাত নিপ্পন পেপার ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানির ইয়াতসুশিরো কারখানার একটি সুবিশাল চিমনি হঠাৎ মাটিতে ধসে পড়ে। এতে চিমনিটির বিশালাকার ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কয়েকজন শ্রমিক আটকা পড়েছেন বলে স্পষ্ট জানিয়েছে কুমামোতোর স্থানীয় জরুরি উদ্ধারকারী দল। আহত ও আটকে পড়াদের নিরাপদে বের করে আনতে ভারী যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী কুকুর ব্যবহার করা হচ্ছে।

পরিস্থিতির সার্বিক গুরুত্ব বিবেচনা করে জাপানের ফায়ার অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (এফডিএমএ) দ্রুত আক্রান্ত এলাকার আড়াই লাখেরও বেশি মানুষকে অনতিবিলম্বে নিরাপদ স্থানে আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ বা জরুরি পরাামর্শ দিয়েছে। বর্তমানে ২ লাখ ৬০ হাজারের বেশি অধিবাসী স্থানান্তর প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই কুমামোতো প্রিফেকচারের বাসিন্দা। এর পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী নাগাসাকি প্রিফেকচারের ঝুকিপূর্ণ এলাকার অধিবাসীদেরও দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যেতে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

প্রতিবেদনে জানা গেছে, ভূমিকম্পে সবচেয়ে মারাত্মকভাবে বিধ্বস্ত এই এলাকাটি জাপানের রাজধানী টোকিও থেকে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। দ্রুত ও কার্যকর পুনর্বাসন এবং জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের একটি বিশেষ জরুরি দল ইতোমধ্যে দুর্গত এলাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরাকে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীর ঘাঁটিতে সৌদি-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা: নিহত ৮

জাপানে শক্তিশালী ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩: উদ্ধার তৎপরতা জোরদার

আপডেট সময় : ১১:২৭:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান দ্বীপ কিউশুর কুমামোতো এলাকায় আঘাত হানা ভয়াবহ ও শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। বুধবার (২৯ জুলাই) জাপানি প্রশাসনের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এপি নিউজ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া নিখোঁজদের উদ্ধারে রাতভর টানা চিরুনি অভিযান চালানো হয়েছে এবং বিপজ্জনক পরিস্থিতিতেও উদ্ধারকাজ এখনো পূর্ণ গতিতে চলছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এক জরুরি ব্রিফিংয়ে জানান, এখন পর্যন্ত ১৩ জন মারা যাওয়ার বিষাদময় তথ্য পাওয়া গেলেও আহত মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। পাশাপাশি বেশ কয়েকজন নাগরিক এখনো নিখোঁজ অবস্থায় বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিখোঁজ সকলকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের এখন প্রথম ও প্রধান অগ্রাধিকার।

এর আগে গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলের দিকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় কুমামোতো প্রশাসনিক অঞ্চলে হঠাৎ ৭.১ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূকম্পনের ভয়াবহ তীব্রতায় কাশিমা শহরের জনপ্রিয় ‘এইয়ন মল’ নামক একটি বিশাল শপিং সেন্টারের দ্বিতীয় তলার অবকাঠামো মুহূর্তেই ধসে পড়ে। স্থানীয় উদ্ধারকারী কর্মকর্তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ভূমিকম্পের ধাক্কায় গ্যাস লাইন লিকেজের ফলে বিস্ফোরণ ঘটে এই ধ্বংসাত্মক ধসের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। দমকল বিভাগের কর্মীরা জানিয়েছেন, শপিং সেন্টারটির সেই ধসে যাওয়া অংশের নিচে বেশ কয়েকজন সাধারণ ক্রেতা ও কর্মী এখনো আটকে আছেন।

ভূমিকম্পে শিল্পাঞ্চলগুলোতেও ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। বিখ্যাত নিপ্পন পেপার ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানির ইয়াতসুশিরো কারখানার একটি সুবিশাল চিমনি হঠাৎ মাটিতে ধসে পড়ে। এতে চিমনিটির বিশালাকার ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কয়েকজন শ্রমিক আটকা পড়েছেন বলে স্পষ্ট জানিয়েছে কুমামোতোর স্থানীয় জরুরি উদ্ধারকারী দল। আহত ও আটকে পড়াদের নিরাপদে বের করে আনতে ভারী যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী কুকুর ব্যবহার করা হচ্ছে।

পরিস্থিতির সার্বিক গুরুত্ব বিবেচনা করে জাপানের ফায়ার অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (এফডিএমএ) দ্রুত আক্রান্ত এলাকার আড়াই লাখেরও বেশি মানুষকে অনতিবিলম্বে নিরাপদ স্থানে আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ বা জরুরি পরাামর্শ দিয়েছে। বর্তমানে ২ লাখ ৬০ হাজারের বেশি অধিবাসী স্থানান্তর প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই কুমামোতো প্রিফেকচারের বাসিন্দা। এর পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী নাগাসাকি প্রিফেকচারের ঝুকিপূর্ণ এলাকার অধিবাসীদেরও দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যেতে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

প্রতিবেদনে জানা গেছে, ভূমিকম্পে সবচেয়ে মারাত্মকভাবে বিধ্বস্ত এই এলাকাটি জাপানের রাজধানী টোকিও থেকে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। দ্রুত ও কার্যকর পুনর্বাসন এবং জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের একটি বিশেষ জরুরি দল ইতোমধ্যে দুর্গত এলাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে।