ঢাকা ১০:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ছাত্রদলকে প্রাধান্য দেওয়ায় শিবির ও বৈষম্যবিরোধীদের বর্জন

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে শুধুমাত্র ছাত্রদলের নেতাদের মঞ্চে আসন ও বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে – এই অভিযোগে অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে এই ঘটনা ঘটে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ছাত্রশিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা মঞ্চে উপস্থিত অতিথি এবং অনুষ্ঠানের সভাপতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে তাদের আপত্তির কথা তুলে ধরেন। এর কিছুক্ষণ পর অনুষ্ঠানস্থলে এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিতে দিতে তারা অনুষ্ঠান বর্জন করে স্থান ত্যাগ করেন।

অনুষ্ঠান বর্জনের সময় তারা প্রশ্ন তোলেন, এটি কি বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক কোনো অনুষ্ঠান, নাকি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি?

অনুষ্ঠানে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, সংসদ সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য আনিছুর রহমান, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ও সিন্ডিকেট সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপউপাচার্য, ট্রেজারারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়াও, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি, সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং পূর্ববর্তী কমিটির এক নেতাও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আতিকুর রহমান বলেন, ‘নবীনবরণ অনুষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর জন্য, এটি কোনো দলীয় কর্মসূচি নয়। অথচ, অতীতের মতো আবারও একটি নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা একটি বৈষম্যহীন ক্যাম্পাস গঠনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’

তিনি আরও বলেন, ‘জুলাইয়ের আন্দোলনে বিভিন্ন মত ও সংগঠনের শিক্ষার্থীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল সেই অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সেই প্রত্যাশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। প্রশাসন যদি বৈষম্যমূলক অবস্থান গ্রহণ করে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা সকল ছাত্রসংগঠনের এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ আশা করি।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রথম বাজেট ঘোষণা: ১ হাজার ৪১৭ কোটি টাকার প্রস্তাব

নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ছাত্রদলকে প্রাধান্য দেওয়ায় শিবির ও বৈষম্যবিরোধীদের বর্জন

আপডেট সময় : ০৮:১৬:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে শুধুমাত্র ছাত্রদলের নেতাদের মঞ্চে আসন ও বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে – এই অভিযোগে অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে এই ঘটনা ঘটে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ছাত্রশিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা মঞ্চে উপস্থিত অতিথি এবং অনুষ্ঠানের সভাপতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে তাদের আপত্তির কথা তুলে ধরেন। এর কিছুক্ষণ পর অনুষ্ঠানস্থলে এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিতে দিতে তারা অনুষ্ঠান বর্জন করে স্থান ত্যাগ করেন।

অনুষ্ঠান বর্জনের সময় তারা প্রশ্ন তোলেন, এটি কি বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক কোনো অনুষ্ঠান, নাকি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি?

অনুষ্ঠানে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, সংসদ সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য আনিছুর রহমান, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ও সিন্ডিকেট সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপউপাচার্য, ট্রেজারারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়াও, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি, সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং পূর্ববর্তী কমিটির এক নেতাও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আতিকুর রহমান বলেন, ‘নবীনবরণ অনুষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর জন্য, এটি কোনো দলীয় কর্মসূচি নয়। অথচ, অতীতের মতো আবারও একটি নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা একটি বৈষম্যহীন ক্যাম্পাস গঠনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’

তিনি আরও বলেন, ‘জুলাইয়ের আন্দোলনে বিভিন্ন মত ও সংগঠনের শিক্ষার্থীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল সেই অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সেই প্রত্যাশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। প্রশাসন যদি বৈষম্যমূলক অবস্থান গ্রহণ করে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা সকল ছাত্রসংগঠনের এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ আশা করি।’