ঢাকা ০৫:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

দুধ, ডিম ও পশুখাদ্যে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া শনাক্তে যুগান্তকারী প্রযুক্তি উদ্ভাবন

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) খাদ্য নিরাপত্তায় এক যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আতিকুল হকের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় উদ্ভাবিত হয়েছে Loop-Mediated Isothermal Amplification (LAMP) ভিত্তিক একটি পরীক্ষা পদ্ধতি, যা মাত্র ৯০ মিনিটে খাদ্যবাহিত ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া Bacillus cereus শনাক্ত করতে সক্ষম। এই ব্যাকটেরিয়া ডায়রিয়া ও খাদ্যে বিষক্রিয়ার মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে, যা বাংলাদেশের খাদ্যশৃঙ্খলে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, মাঠপর্যায়ের নমুনার প্রায় ৮০ শতাংশ অন্তত একটি টক্সিন জিনের জন্য পজিটিভ ছিল। পশুখাদ্যে সর্বোচ্চ দূষণ পাওয়া গেছে, পাশাপাশি দুধ ও ডিমেও উল্লেখযোগ্য দূষণ ধরা পড়েছে। এতে স্পষ্ট হয় যে Bacillus cereus পূর্বধারণার চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।

প্রচলিত PCR পরীক্ষায় ফলাফল পেতে ৩-৫ ঘণ্টা সময় লাগে এবং ব্যয়বহুল থার্মাল সাইক্লার প্রয়োজন হয়। প্রতি পরীক্ষার খরচও তুলনামূলকভাবে বেশি। অন্যদিকে, নতুন LAMP প্রযুক্তি মাত্র ৯০ মিনিটে ফলাফল দেয়, খরচ কম (প্রায় ২ দশমিক ৫ মার্কিন ডলার), এবং সাধারণ ওয়াটার বাথ বা হিটিং ব্লক দিয়েই পরীক্ষা করা যায়। সংবেদনশীলতার দিক থেকেও LAMP এগিয়ে— এটি প্রায় দশ হাজার গুণ বেশি সংবেদনশীল এবং ৯৬ দশমিক ১ শতাংশ ডায়াগনস্টিক সংবেদনশীলতা প্রদর্শন করেছে।

গবেষণার তাৎপর্য তুলে ধরে ড. আতিকুল হক বলেন, এই গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশ খাদ্যবাহিত ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দ্রুত শনাক্তকরণের একটি কার্যকর, সাশ্রয়ী ও বাস্তবসম্মত প্রযুক্তি অর্জন করেছে। আমরা সাধারণত মাত্র ৪০ মিনিটেই ব্যাকটেরিয়া নির্ণয় করতে পারব। সম্পূর্ণ নিশ্চিত হতে সর্বোচ্চ ৯০ মিনিট লাগে। সীমিত সম্পদসম্পন্ন পরিবেশেও এই প্রযুক্তি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি, দেশের নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। গবেষণাটি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি)-এর সহযোগিতায় সম্পন্ন হয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জার্নাল Frontiers in Cellular and Infection Microbiology-এ প্রকাশিত হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের গবেষণা বৈশ্বিক অঙ্গনে নতুন পরিচিতি লাভ করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই সনদের আইনি বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতপার্থক্য

দুধ, ডিম ও পশুখাদ্যে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া শনাক্তে যুগান্তকারী প্রযুক্তি উদ্ভাবন

আপডেট সময় : ০১:৩৯:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) খাদ্য নিরাপত্তায় এক যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আতিকুল হকের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় উদ্ভাবিত হয়েছে Loop-Mediated Isothermal Amplification (LAMP) ভিত্তিক একটি পরীক্ষা পদ্ধতি, যা মাত্র ৯০ মিনিটে খাদ্যবাহিত ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া Bacillus cereus শনাক্ত করতে সক্ষম। এই ব্যাকটেরিয়া ডায়রিয়া ও খাদ্যে বিষক্রিয়ার মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে, যা বাংলাদেশের খাদ্যশৃঙ্খলে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, মাঠপর্যায়ের নমুনার প্রায় ৮০ শতাংশ অন্তত একটি টক্সিন জিনের জন্য পজিটিভ ছিল। পশুখাদ্যে সর্বোচ্চ দূষণ পাওয়া গেছে, পাশাপাশি দুধ ও ডিমেও উল্লেখযোগ্য দূষণ ধরা পড়েছে। এতে স্পষ্ট হয় যে Bacillus cereus পূর্বধারণার চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।

প্রচলিত PCR পরীক্ষায় ফলাফল পেতে ৩-৫ ঘণ্টা সময় লাগে এবং ব্যয়বহুল থার্মাল সাইক্লার প্রয়োজন হয়। প্রতি পরীক্ষার খরচও তুলনামূলকভাবে বেশি। অন্যদিকে, নতুন LAMP প্রযুক্তি মাত্র ৯০ মিনিটে ফলাফল দেয়, খরচ কম (প্রায় ২ দশমিক ৫ মার্কিন ডলার), এবং সাধারণ ওয়াটার বাথ বা হিটিং ব্লক দিয়েই পরীক্ষা করা যায়। সংবেদনশীলতার দিক থেকেও LAMP এগিয়ে— এটি প্রায় দশ হাজার গুণ বেশি সংবেদনশীল এবং ৯৬ দশমিক ১ শতাংশ ডায়াগনস্টিক সংবেদনশীলতা প্রদর্শন করেছে।

গবেষণার তাৎপর্য তুলে ধরে ড. আতিকুল হক বলেন, এই গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশ খাদ্যবাহিত ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দ্রুত শনাক্তকরণের একটি কার্যকর, সাশ্রয়ী ও বাস্তবসম্মত প্রযুক্তি অর্জন করেছে। আমরা সাধারণত মাত্র ৪০ মিনিটেই ব্যাকটেরিয়া নির্ণয় করতে পারব। সম্পূর্ণ নিশ্চিত হতে সর্বোচ্চ ৯০ মিনিট লাগে। সীমিত সম্পদসম্পন্ন পরিবেশেও এই প্রযুক্তি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি, দেশের নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। গবেষণাটি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি)-এর সহযোগিতায় সম্পন্ন হয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জার্নাল Frontiers in Cellular and Infection Microbiology-এ প্রকাশিত হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের গবেষণা বৈশ্বিক অঙ্গনে নতুন পরিচিতি লাভ করেছে।