ঢাকা ১০:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

সীতাকুণ্ডে ভুল সড়ক খননে তীব্র জনদুর্ভোগ, কোটি টাকার প্রকল্প আটকে যাওয়ার শঙ্কা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসভায় প্রায় ৯ কোটি টাকার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে টেন্ডারজট, পরিকল্পনার অসঙ্গতি, ভুল সড়কে খনন এবং দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ উঠেছে। এতে পৌর এলাকায় তীব্র জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। একই সময়ে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিনেও শুরু না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন না হলে কোটি কোটি টাকার আন্তর্জাতিক বরাদ্দ ফেরত যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভুলবশত খনন করে ফেলে রাখা প্রায় ৫০০ ফুট ইটের সোলিং সড়ক এখন বড় বড় গর্ত, কাদা ও জলাবদ্ধতায় ভরে গেছে। টানা বর্ষণে সড়কটি সম্পূর্ণ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রিকশা, সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল প্রায় বন্ধের উপক্রম। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন নারী, শিশু ও বয়স্করা। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদরাসায় যাতায়াতও ব্যাহত হচ্ছে, এমনকি গুরুতর অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, চৌধুরীপাড়া-রেলওয়ে কানেক্টিং সড়কের উন্নয়নকাজের জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হলেও বাস্তবে আব্দুর রব চৌধুরী সড়কে খননকাজ শুরু করা হয়। এলাকাবাসীর প্রতিবাদের মুখে কাজ বন্ধ হয়ে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি আর সংস্কার করা হয়নি, যা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

পৌরসভা বিএনপির ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, টেন্ডারের আগে প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে যাচাই করা হলে এমন ভুল হওয়ার সুযোগ ছিল না। একটি সচল সড়ক অকারণে কেটে ফেলে হাজারো মানুষকে দুর্ভোগে ফেলা হয়েছে। তিনি প্রকৌশল বিভাগের পরিকল্পনা ও তদারকির ঘাটতিকেই এ পরিস্থিতির মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর শামসুল আলম আজাদ জানান, কার্যাদেশ দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের দায়িত্ব ছিল সরেজমিনে গিয়ে ঠিকাদারকে প্রকল্পের সঠিক স্থান বুঝিয়ে দেওয়া। সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করায় ভুল সড়কে কাজ শুরু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এমজিএসটি ও আরইউটিডিপি প্রকল্পের আওতায় ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শেখপাড়া পুরাতন সড়ক, পোল্ট্রি ফার্ম কানেক্টিং রোড এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আমির হোসেন মিয়াজী বাড়ি সড়কের কার্যাদেশ প্রায় এক বছর আগে দেওয়া হলেও এখনো কাজ শুরু হয়নি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ না হলে কোটি কোটি টাকার আন্তর্জাতিক অর্থায়ন হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ ফুটবল: বালক বিভাগে সিলেট-ময়মনসিংহ, বালিকা বিভাগে রাজশাহী-রংপুর ফাইনালে

সীতাকুণ্ডে ভুল সড়ক খননে তীব্র জনদুর্ভোগ, কোটি টাকার প্রকল্প আটকে যাওয়ার শঙ্কা

আপডেট সময় : ০৬:১০:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসভায় প্রায় ৯ কোটি টাকার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে টেন্ডারজট, পরিকল্পনার অসঙ্গতি, ভুল সড়কে খনন এবং দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ উঠেছে। এতে পৌর এলাকায় তীব্র জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। একই সময়ে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিনেও শুরু না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন না হলে কোটি কোটি টাকার আন্তর্জাতিক বরাদ্দ ফেরত যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভুলবশত খনন করে ফেলে রাখা প্রায় ৫০০ ফুট ইটের সোলিং সড়ক এখন বড় বড় গর্ত, কাদা ও জলাবদ্ধতায় ভরে গেছে। টানা বর্ষণে সড়কটি সম্পূর্ণ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রিকশা, সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল প্রায় বন্ধের উপক্রম। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন নারী, শিশু ও বয়স্করা। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদরাসায় যাতায়াতও ব্যাহত হচ্ছে, এমনকি গুরুতর অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, চৌধুরীপাড়া-রেলওয়ে কানেক্টিং সড়কের উন্নয়নকাজের জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হলেও বাস্তবে আব্দুর রব চৌধুরী সড়কে খননকাজ শুরু করা হয়। এলাকাবাসীর প্রতিবাদের মুখে কাজ বন্ধ হয়ে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি আর সংস্কার করা হয়নি, যা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

পৌরসভা বিএনপির ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, টেন্ডারের আগে প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে যাচাই করা হলে এমন ভুল হওয়ার সুযোগ ছিল না। একটি সচল সড়ক অকারণে কেটে ফেলে হাজারো মানুষকে দুর্ভোগে ফেলা হয়েছে। তিনি প্রকৌশল বিভাগের পরিকল্পনা ও তদারকির ঘাটতিকেই এ পরিস্থিতির মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর শামসুল আলম আজাদ জানান, কার্যাদেশ দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের দায়িত্ব ছিল সরেজমিনে গিয়ে ঠিকাদারকে প্রকল্পের সঠিক স্থান বুঝিয়ে দেওয়া। সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করায় ভুল সড়কে কাজ শুরু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এমজিএসটি ও আরইউটিডিপি প্রকল্পের আওতায় ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শেখপাড়া পুরাতন সড়ক, পোল্ট্রি ফার্ম কানেক্টিং রোড এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আমির হোসেন মিয়াজী বাড়ি সড়কের কার্যাদেশ প্রায় এক বছর আগে দেওয়া হলেও এখনো কাজ শুরু হয়নি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ না হলে কোটি কোটি টাকার আন্তর্জাতিক অর্থায়ন হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।