ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ তাপপ্রবাহের প্রভাবে বিভিন্ন দেশে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। লাখ লাখ মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় বিশাল এলাকার অধিবাসীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে স্পেনে প্রথমবারের মতো দাবানলজনিত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে, ফ্রান্স তাদের আটলান্টিক উপকূলের অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) জরুরি সহযোগিতা চেয়েছে।
ফ্রান্সের পর্যটন কেন্দ্র ক্যাফ ফেহে উপদ্বীপে লোকালয়ের খুব কাছে আগুনের লেলিহান শিখা ও ঘন ধোঁয়া পৌঁছে যাওয়ায় পুরো এলাকাটি খালি করার নির্দেশ দিয়েছে ফরাসি প্রশাসন। এই অঞ্চল থেকে ইতোমধ্যেই প্রায় ৬৩ হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে একটি বড় অংশকে নৌপথে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে বলে সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের নির্দেশে এলাকা ছেড়ে আসা ২৬ বছর বয়সী ইয়োয়ান ইউরিয়েন জানান, তাদের বাড়ি থেকেই আগুনের ভয়াবহ রূপ চোখে পড়ছিল এবং আকাশজুড়ে ধোঁয়ার মেঘ ক্রমশ গাঢ় ও কালো হয়ে উঠছিল।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন নুনেজ এক স্থানীয় টিভি চ্যানেলকে জানান, ক্যাফ ফেহেরের উত্তর প্রান্তের ‘সাওমুস’ এলাকা থেকে শুরু হওয়া আগুনটি উপদ্বীপ থেকে বেরোনোর প্রধান সড়কটিকে প্রায় অবরুদ্ধ করে ফেলেছে। এটি চলতি বছরের মধ্যে ফ্রান্সে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই আগুনে ইতোমধ্যে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর এলাকা ভস্মীভূত হয়েছে এবং অন্তত ৮০টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৫০টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
অন্যদিকে, স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মার্লাসকা জানিয়েছেন, রাজধানী মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চলীয় পাহাড়ি এলাকার বিভিন্ন শহর থেকে ১০ হাজারেরও বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই এলাকা এবং সীমান্তবর্তী আভিলা প্রদেশের তিনটি আলাদা দাবানল যেন একত্রিত হয়ে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে না পারে, সে লক্ষ্যে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। মার্লাসকা আরও জানান, জরুরি অবস্থা জারি করার ফলে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধন অনেক সহজ হবে।
রিপোর্টারের নাম 






















