সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে চরগিরিশ ইউনিয়নের শত শত পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন বসতভিটা, ফসলি জমি, রাস্তাঘাট এবং বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত এক মাসে চরগিরিশ ফ্লাড সেন্টার বাজার থেকে ভেটুয়া এলাকা পর্যন্ত প্রায় দুই থেকে তিন শতাধিক বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে পশ্চিম চরগিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কয়েকটি মসজিদ, একটি মাদ্রাসা এবং বাজারসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এলাকাবাসী আশঙ্কা করছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ঐতিহ্যবাহী এই জনপদটি মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে।
ছকিনা বিবি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমাদের বাড়ির ভিটা নদীর মধ্যে চলে গেল। শুধু চেয়ে চেয়ে দেখলাম। এখন কী করব, কোথায় থাকব? আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।’ ছালাল গ্রামের কৃষক রইচ উদ্দিন জানান, প্রায় দেড় মাস ধরে ভাঙন শুরু হয়েছে, কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমাদের এমপি সেলিম রেজা ভাঙন এলাকা দেখে গেছেন। আশা করি, এলাকার অবশিষ্ট অংশটুকু রক্ষায় সরকার ব্যবস্থা নেবেন।’
চরগিরিশ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আল আমিন সরকার বলেন, যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে, তাতে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পশ্চিম চরগিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি রক্ষা করা কঠিন হবে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়ে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে এবং নদী এখন বিদ্যালয়ের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রক্ষায় স্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, উপজেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা থেকে তিনটি বরাদ্দে ১২টি ইউনিয়নের জন্য মোট ৮৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ ও ৩০ মেট্রিক টন উপজেলার সব ইউনিয়নের জন্য এবং ৫ মেট্রিক টন শুধুমাত্র চরাঞ্চলের ছয়টি ইউনিয়নের জন্য। তিনি আরও জানান, শিগগিরই অতিরিক্ত বরাদ্দ বিতরণ করা হবে। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, ভাঙন এলাকায় জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর কাজ চলছে। তবে চরাঞ্চলের এই ভাঙন রোধে বড় ধরনের প্রকল্প প্রয়োজন এবং বিষয়টি সমীক্ষা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে বলে তিনি জানান।
রিপোর্টারের নাম 






















