ঢাকা ০৪:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

বাবার দাফন শেষে এটিএম বুথে দায়িত্ব পালন, শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাস পেল মেধাবী ইকন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৭:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

বাগেরহাটে এক অভাবনীয় মানবিক ঘটনার সাক্ষী হলেন সকলে। বাবার দাফন সম্পন্ন করার পরদিনই বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এটিএম বুথে দায়িত্ব পালন এবং এরপর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মেধাবী ছাত্র ইকনের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম ড. এহছানুল হক মিলন। বুধবার (তারিখ উল্লেখ নেই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ফারহান ইশতিয়াক ইকনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রীর পিএস জানান, বৃহস্পতিবার (তারিখ উল্লেখ নেই) সকাল ১০টার দিকে শিক্ষামন্ত্রী নিজেই ইকনের সঙ্গে কথা বলবেন। এছাড়াও, ইকনের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে দ্রুত আর্থিক সহায়তা পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী। এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ইকনের উচ্চশিক্ষা এবং ভবিষ্যতের লেখাপড়ার সমস্ত দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

ফারহান ইশতিয়াক আরও বলেন, ইকনের বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীর নজরে এসেছে এবং তিনি এটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। আপাতত তার জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পরীক্ষা শেষে যেন অর্থের অভাবে তার পড়াশোনা বন্ধ না হয়, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

ইকনের এই জীবনসংগ্রামের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করার পর দেশ-বিদেশ থেকে অনেকেই তার খোঁজখবর নিয়েছেন এবং সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। শিক্ষামন্ত্রীর এই মানবিক উদ্যোগ ইকন ও তার পরিবারের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে।

ঘটনার দিন সকালে ইকনের বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং দুপুরে মারা যান। মাত্র ৪৬ বছর বয়সে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে পরিবারটি। জীবিকার তাগিদে মোটরসাইকেল চালিয়ে সংসার চালাতেন ইসরাফিল দাড়িয়া। ইকনের দাদার বাড়ি গোপালগঞ্জে হলেও, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, বাগেরহাটে গাড়িচালকের চাকরির সুবাদে পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে বাগেরহাটে বসবাস করছে। চাকরি থেকে অবসরের পর দাদা গোপালগঞ্জে ফিরে গেলেও ইসরাফিল বাগেরহাটেই থেকে যান। বর্তমানে মা, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়া মানসিক ভারসাম্যহীন এক ভাই এবং নিজেকে নিয়ে মাত্র চার হাজার টাকা ভাড়ার একটি বাসায় বসবাস করছে ইকনের পরিবার।

ইকনের বড় মামা মানিক মোল্লা জানান, এটি তাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত কঠিন সময়। ইকনের বাবা মারা যাওয়ার পর পরিবারের সব দায়িত্ব যেন হঠাৎ করেই তার কাঁধে এসে পড়েছে। কিন্তু এত প্রতিকূলতার মধ্যেও সে পড়াশোনা ছাড়েনি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী ওয়াশরুমে ভিডিও ধারণের অভিযোগ: উত্তাল ক্যাম্পাস, প্রশাসনিক ভবনে তালা

বাবার দাফন শেষে এটিএম বুথে দায়িত্ব পালন, শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাস পেল মেধাবী ইকন

আপডেট সময় : ০২:৪৭:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

বাগেরহাটে এক অভাবনীয় মানবিক ঘটনার সাক্ষী হলেন সকলে। বাবার দাফন সম্পন্ন করার পরদিনই বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এটিএম বুথে দায়িত্ব পালন এবং এরপর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মেধাবী ছাত্র ইকনের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম ড. এহছানুল হক মিলন। বুধবার (তারিখ উল্লেখ নেই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ফারহান ইশতিয়াক ইকনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রীর পিএস জানান, বৃহস্পতিবার (তারিখ উল্লেখ নেই) সকাল ১০টার দিকে শিক্ষামন্ত্রী নিজেই ইকনের সঙ্গে কথা বলবেন। এছাড়াও, ইকনের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে দ্রুত আর্থিক সহায়তা পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী। এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ইকনের উচ্চশিক্ষা এবং ভবিষ্যতের লেখাপড়ার সমস্ত দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

ফারহান ইশতিয়াক আরও বলেন, ইকনের বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীর নজরে এসেছে এবং তিনি এটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। আপাতত তার জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পরীক্ষা শেষে যেন অর্থের অভাবে তার পড়াশোনা বন্ধ না হয়, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

ইকনের এই জীবনসংগ্রামের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করার পর দেশ-বিদেশ থেকে অনেকেই তার খোঁজখবর নিয়েছেন এবং সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। শিক্ষামন্ত্রীর এই মানবিক উদ্যোগ ইকন ও তার পরিবারের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে।

ঘটনার দিন সকালে ইকনের বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং দুপুরে মারা যান। মাত্র ৪৬ বছর বয়সে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে পরিবারটি। জীবিকার তাগিদে মোটরসাইকেল চালিয়ে সংসার চালাতেন ইসরাফিল দাড়িয়া। ইকনের দাদার বাড়ি গোপালগঞ্জে হলেও, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, বাগেরহাটে গাড়িচালকের চাকরির সুবাদে পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে বাগেরহাটে বসবাস করছে। চাকরি থেকে অবসরের পর দাদা গোপালগঞ্জে ফিরে গেলেও ইসরাফিল বাগেরহাটেই থেকে যান। বর্তমানে মা, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়া মানসিক ভারসাম্যহীন এক ভাই এবং নিজেকে নিয়ে মাত্র চার হাজার টাকা ভাড়ার একটি বাসায় বসবাস করছে ইকনের পরিবার।

ইকনের বড় মামা মানিক মোল্লা জানান, এটি তাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত কঠিন সময়। ইকনের বাবা মারা যাওয়ার পর পরিবারের সব দায়িত্ব যেন হঠাৎ করেই তার কাঁধে এসে পড়েছে। কিন্তু এত প্রতিকূলতার মধ্যেও সে পড়াশোনা ছাড়েনি।