ঢাকা ০১:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়: দফায় দফায় স্থগিত ব্রাকসু নির্বাচন, অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থীরা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৫:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (ব্রাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন দফায় দফায় তফসিল পরিবর্তন ও স্থগিত হওয়ায় গভীর অনিশ্চয়তায় পড়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের একাধিকবার পদত্যাগের ঘটনা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে। এর মধ্যে গঠনতন্ত্র সংশোধনের দাবি নতুন বিতর্কের জন্ম দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা বেড়েই চলেছে।

শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন, মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন এবং সবশেষ আমরণ অনশনের পর ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে বিশ্ববিদ্যালয় আইনে শিক্ষার্থী সংসদ যুক্ত হয়। এরপর ৪ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১৬তম জরুরি সিন্ডিকেট সভায় মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমানকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করে ব্রাকসুর প্রথম নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। তবে দায়িত্ব গ্রহণের একদিন পরই তিনি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলে নির্বাচন কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

পরে ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ১১৭তম জরুরি সিন্ডিকেট সভায় পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শাহজামানকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করে ছয় সদস্যের নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। তবে কমিশন পুনর্গঠনের পরও কার্যক্রমে গতি দেখা যায়নি। শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে ১৮ নভেম্বর তড়িঘড়ি করে ২৯ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করে প্রথম তফসিল ঘোষণা করা হয়। তবে একদিন পরই তারিখ পরিবর্তন করে ২৪ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করে দ্বিতীয় তফসিল প্রকাশ করা হয়।

এরই মধ্যে ২৫ নভেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. মো. শাহজামান প্রথমবারের মতো পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুরোধে তিনি পুনরায় দায়িত্ব পালনে সম্মত হন। ১ ডিসেম্বর জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ভোটার তালিকায় অসংগতির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশন অনির্দিষ্টকালের জন্য ব্রাকসুর সব কার্যক্রম স্থগিত করে। শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে ৩ ডিসেম্বর ওই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে তৃতীয় তফসিল ঘোষণা করা হয়।

তৃতীয় তফসিল অনুযায়ী প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ, ডোপ টেস্ট রিপোর্ট দাখিলসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। তবে ৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে বিনা নোটিসেই লাপাত্তা হয় নির্বাচন কমিশন। এতে প্রার্থীরা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন। পরদিন ১০ ডিসেম্বর রাতে আবার তফসিল পরিবর্তন করে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষিণ এশিয়ার খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক চ্যালেঞ্জ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়: দফায় দফায় স্থগিত ব্রাকসু নির্বাচন, অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় : ১১:২৫:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (ব্রাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন দফায় দফায় তফসিল পরিবর্তন ও স্থগিত হওয়ায় গভীর অনিশ্চয়তায় পড়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের একাধিকবার পদত্যাগের ঘটনা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে। এর মধ্যে গঠনতন্ত্র সংশোধনের দাবি নতুন বিতর্কের জন্ম দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা বেড়েই চলেছে।

শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন, মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন এবং সবশেষ আমরণ অনশনের পর ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে বিশ্ববিদ্যালয় আইনে শিক্ষার্থী সংসদ যুক্ত হয়। এরপর ৪ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১৬তম জরুরি সিন্ডিকেট সভায় মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমানকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করে ব্রাকসুর প্রথম নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। তবে দায়িত্ব গ্রহণের একদিন পরই তিনি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলে নির্বাচন কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

পরে ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ১১৭তম জরুরি সিন্ডিকেট সভায় পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শাহজামানকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করে ছয় সদস্যের নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। তবে কমিশন পুনর্গঠনের পরও কার্যক্রমে গতি দেখা যায়নি। শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে ১৮ নভেম্বর তড়িঘড়ি করে ২৯ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করে প্রথম তফসিল ঘোষণা করা হয়। তবে একদিন পরই তারিখ পরিবর্তন করে ২৪ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করে দ্বিতীয় তফসিল প্রকাশ করা হয়।

এরই মধ্যে ২৫ নভেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. মো. শাহজামান প্রথমবারের মতো পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুরোধে তিনি পুনরায় দায়িত্ব পালনে সম্মত হন। ১ ডিসেম্বর জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ভোটার তালিকায় অসংগতির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশন অনির্দিষ্টকালের জন্য ব্রাকসুর সব কার্যক্রম স্থগিত করে। শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে ৩ ডিসেম্বর ওই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে তৃতীয় তফসিল ঘোষণা করা হয়।

তৃতীয় তফসিল অনুযায়ী প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ, ডোপ টেস্ট রিপোর্ট দাখিলসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। তবে ৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে বিনা নোটিসেই লাপাত্তা হয় নির্বাচন কমিশন। এতে প্রার্থীরা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন। পরদিন ১০ ডিসেম্বর রাতে আবার তফসিল পরিবর্তন করে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।