২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানে শহীদ শিল্পী আবদুল্লাহ আল তাহিরের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে সমন্বিত সাংস্কৃতিক সংসদ (সসাস) এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে। বুধবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার বিপ্লবে সংস্কৃতিকর্মীরা দেশের মুক্তিকামী জনতার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজপথে নেমেছিলেন। স্বৈরাচার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে গিয়ে তরুণ শিল্পী আবদুল্লাহ আল তাহির নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তার এই বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগ দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে বলে তারা মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে শহীদ শিল্পী আবদুল্লাহ আল তাহিরের মা শিরিন বেগম আবেগঘন পরিবেশে তার সন্তানকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। তিনি তার ছেলের আদর্শ, দেশপ্রেম ও সংস্কৃতিচর্চার নানা স্মৃতির কথা তুলে ধরেন, যা উপস্থিত সকলকে গভীরভাবে আবেগাপ্লুত করে।
সসাসের সাহিত্য সম্পাদক তানবীর আহমাদ শিবলীর উপস্থাপনায় এবং সসাসের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এইচ এম আবু মুসা, ড. মনোয়ারুল ইসলাম, শরীফ বায়েজিদ মাহমুদ, সাইফুল আরেফিন লেলিন, রেজাউল করিম শাকিল ও জসিম উদ্দিন। এছাড়া বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সংস্কৃতিকর্মীরাও অনুষ্ঠানে যোগদান করেন।
সসাসের সাবেক নির্বাহী পরিচালক এইচ এম আবু মুসা তার বক্তব্যে বলেন, শিল্পী আবদুল্লাহ আল তাহির কেবল একজন সংস্কৃতিকর্মী ছিলেন না, তিনি ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক অদম্য প্রতিবাদী কণ্ঠ। তার আত্মত্যাগ আমাদের সুস্থ ও নীতিভিত্তিক সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে আরও বেগবান করার অনুপ্রেরণা জোগায়।
সভাপতির বক্তব্যে সসাসের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসাইন বলেন, শহীদ আবদুল্লাহ আল তাহিরের অপূর্ণ স্বপ্ন ও আদর্শ বাস্তবায়নে সসাস সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ। অপসংস্কৃতির বিপরীতে দাঁড়িয়ে একটি নীতিবান ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গঠনে তারা কাজ করে যাবেন।
আলোচনা সভা শেষে শহীদ শিল্পী আবদুল্লাহ আল তাহিরের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং সুস্থ সংস্কৃতিচর্চার অগ্রযাত্রায় দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
রিপোর্টারের নাম 























