ঢাকা ০১:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

শয়তানের ‘ওয়াসওয়াসা’ বনাম সত্যের আবাবিল

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৪:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়ে চারপাশকে বোঝার মতো বুদ্ধি যখন হয়েছে, তখন গ্রামের মসজিদের ইমাম ছিলেন আমাদের পাশের বাড়ির এক দাদা। আরবি খুতবার শেষদিকের একটি বাক্যে ইমাম সাহেব পাকিস্তানের নামটি উচ্চারণ করতেন। এর পরপরই ইয়া ফিলিস্তিন, ইয়া কাশ্মীর—এই দুটো শব্দও উচ্চারণ করতেন। গ্রামের সাধারণ মানুষ যেহেতু এগুলোর অর্থ বুঝতেন না, তাই ইমাম সাহেব এগুলো পড়লেও কোনো বালামুসিবতে পড়েননি!

পরে বুঝেছি, ইমাম সাহেব পাকিস্তান আমলে যে খুতবার কিতাবটি কিনেছিলেন, সেখান থেকেই খুতবাটি পড়তেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার অনেক পরেও পাকিস্তানের কল্যাণ কামনায় প্রতি শুক্রবার দোয়া করে গেছেন—বুঝে বা না বুঝে! তখন চতুর্দিকে রক্ষীবাহিনী তথা ফজলু কমান্ডারদের দুর্দান্ত প্রতাপ। ভয়ংকর সত্যটি হলো—যিনি ১০০ মাইল দূর থেকে পাকিস্তানি মিলিটারির আওয়াজ শুনতেন—সেই তিনি একই বৃহত্তর ময়মনসিংহের মধ্যেই অবস্থান করছিলেন! অগত্যা আমাদের ইমাম সাহেব যদি বাংলায় এই খুতবা পড়তেন—তবে বৃহত্তর ময়মনসিংহের ফজলু কমান্ডারের কাছে এই খবর পৌঁছাতে সময় লাগত না।

এই ফজলু কমান্ডার বর্তমান সংসদে দাঁড়িয়ে কথিত পুলিশ হত্যার বিচার চাওয়ার সাহস দেখাচ্ছেন! এর একটি সুন্দর জবাব অবশ্য আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় দিয়েছেন! তিনি বলেছেন, জুলাইয়ে গণপ্রতিরোধের মুখে নিহত হওয়া পুলিশের যদি বিচার করতে হয়, তবে ৭১-এ মুক্তিবাহিনীর হাতে নিহত পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বা রাজাকার হত্যার বিচারও করতে হবে। খুবই যৌক্তিক কথা—এই কথাগুলো আমরা কিছুদিন ধরে বলে আসছি। সেই কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের মুখে শুনে যারপরনাই ভালো লেগেছে! মন্ত্রী মহোদয়গণ, এভাবে কতিপয় রাজনৈতিক নেতার ব্যূহ অতিক্রম করে সাধারণ মানুষের কথাগুলো শুনতে চেষ্টা করুন!

গত কয়েক সপ্তাহে লক্ষ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের কিছু গণমাধ্যম বেলুচিস্তানের ঘটনাবলিকে অস্বাভাবিক গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করছে। কখনো শিরোনামে, কখনো টকশোতে, কখনো বিশ্লেষণের মোড়কে। দেখে মনে হতে পারে, বেলুচিস্তানের ভবিষ্যৎই যেন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জাতীয় উদ্বেগ হয়ে পড়েছে! এরাই আবার দেশের ভেতরের বিরোধী দলের আন্দোলনের খবরকে পারলে ব্ল্যাকআউট করে দিচ্ছে! এই গণমাধ্যমগুলো কখনোই কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামীদের নিয়ে কোনো কথা বলে না, শিখদের স্বাধীন খালিস্তান নিয়ে কোনো কথা লেখে না, সেভেন সিস্টার্সের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর বিষয়েও নীরব থাকে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষিণ এশিয়ার খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক চ্যালেঞ্জ

শয়তানের ‘ওয়াসওয়াসা’ বনাম সত্যের আবাবিল

আপডেট সময় : ১১:২৪:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়ে চারপাশকে বোঝার মতো বুদ্ধি যখন হয়েছে, তখন গ্রামের মসজিদের ইমাম ছিলেন আমাদের পাশের বাড়ির এক দাদা। আরবি খুতবার শেষদিকের একটি বাক্যে ইমাম সাহেব পাকিস্তানের নামটি উচ্চারণ করতেন। এর পরপরই ইয়া ফিলিস্তিন, ইয়া কাশ্মীর—এই দুটো শব্দও উচ্চারণ করতেন। গ্রামের সাধারণ মানুষ যেহেতু এগুলোর অর্থ বুঝতেন না, তাই ইমাম সাহেব এগুলো পড়লেও কোনো বালামুসিবতে পড়েননি!

পরে বুঝেছি, ইমাম সাহেব পাকিস্তান আমলে যে খুতবার কিতাবটি কিনেছিলেন, সেখান থেকেই খুতবাটি পড়তেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার অনেক পরেও পাকিস্তানের কল্যাণ কামনায় প্রতি শুক্রবার দোয়া করে গেছেন—বুঝে বা না বুঝে! তখন চতুর্দিকে রক্ষীবাহিনী তথা ফজলু কমান্ডারদের দুর্দান্ত প্রতাপ। ভয়ংকর সত্যটি হলো—যিনি ১০০ মাইল দূর থেকে পাকিস্তানি মিলিটারির আওয়াজ শুনতেন—সেই তিনি একই বৃহত্তর ময়মনসিংহের মধ্যেই অবস্থান করছিলেন! অগত্যা আমাদের ইমাম সাহেব যদি বাংলায় এই খুতবা পড়তেন—তবে বৃহত্তর ময়মনসিংহের ফজলু কমান্ডারের কাছে এই খবর পৌঁছাতে সময় লাগত না।

এই ফজলু কমান্ডার বর্তমান সংসদে দাঁড়িয়ে কথিত পুলিশ হত্যার বিচার চাওয়ার সাহস দেখাচ্ছেন! এর একটি সুন্দর জবাব অবশ্য আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় দিয়েছেন! তিনি বলেছেন, জুলাইয়ে গণপ্রতিরোধের মুখে নিহত হওয়া পুলিশের যদি বিচার করতে হয়, তবে ৭১-এ মুক্তিবাহিনীর হাতে নিহত পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বা রাজাকার হত্যার বিচারও করতে হবে। খুবই যৌক্তিক কথা—এই কথাগুলো আমরা কিছুদিন ধরে বলে আসছি। সেই কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের মুখে শুনে যারপরনাই ভালো লেগেছে! মন্ত্রী মহোদয়গণ, এভাবে কতিপয় রাজনৈতিক নেতার ব্যূহ অতিক্রম করে সাধারণ মানুষের কথাগুলো শুনতে চেষ্টা করুন!

গত কয়েক সপ্তাহে লক্ষ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের কিছু গণমাধ্যম বেলুচিস্তানের ঘটনাবলিকে অস্বাভাবিক গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করছে। কখনো শিরোনামে, কখনো টকশোতে, কখনো বিশ্লেষণের মোড়কে। দেখে মনে হতে পারে, বেলুচিস্তানের ভবিষ্যৎই যেন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জাতীয় উদ্বেগ হয়ে পড়েছে! এরাই আবার দেশের ভেতরের বিরোধী দলের আন্দোলনের খবরকে পারলে ব্ল্যাকআউট করে দিচ্ছে! এই গণমাধ্যমগুলো কখনোই কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামীদের নিয়ে কোনো কথা বলে না, শিখদের স্বাধীন খালিস্তান নিয়ে কোনো কথা লেখে না, সেভেন সিস্টার্সের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর বিষয়েও নীরব থাকে।