পৃথিবীর কক্ষপথে কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইটের সংখ্যা দ্রুতগতিতে বাড়ছে, যা মহাকাশে সংঘর্ষ এবং বিপজ্জনক বর্জ্য তৈরির ঝুঁকি বাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি) একটি নতুন নিয়ম পাস করেছে। তবে এই পদক্ষেপ নিয়ে সংস্থাগুলোর মধ্যে কর্তৃত্বের লড়াই শুরু হয়েছে।
বর্তমানে মহাকাশে সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় মিলিয়ে ১৮ হাজারের বেশি স্যাটেলাইট রয়েছে, যা গত ছয় বছরে দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। অধিকাংশ স্যাটেলাইটই নিম্ন-পৃথিবী কক্ষপথে অবস্থান করায় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে গেছে। সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট বর্জ্য পুরো কক্ষপথকে ব্যবহারের অনুপযোগী করে তুলতে পারে।
সংঘর্ষ এড়াতে ও মহাকাশ নিরাপত্তা জোরদারে এফসিসি সর্বসম্মতিক্রমে নতুন নীতিমালা পাস করেছে। এতে স্যাটেলাইট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে ‘রিয়েল-টাইম’ বা সঠিক সময়ে অবস্থান ট্র্যাকিংয়ের তথ্য শেয়ার করতে বলা হয়েছে। এত দিন বাণিজ্যিক গোপনীয়তার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান এই তথ্য প্রকাশ করতে চাইত না।
তবে এফসিসির এই ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সংস্থাটি মূলত বেতার তরঙ্গ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করে। অন্যদিকে মার্কিন কংগ্রেস এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন চাইছে মহাকাশ ট্রাফিকের এই দায়িত্ব পালন করুক দেশটির বাণিজ্য বিভাগ। মার্কিন হাউস সাইন্স কমিটির শীর্ষ রিপাবলিকান সদস্য ব্রায়ান বাবিন এবং ডেমোক্রেট সদস্য জো লফগ্রেন যৌথ চিঠিতে এফসিসির চেয়ারম্যান ব্রেন্ডন কারকে ভোট স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাদের মতে, মহাকাশ ট্রাফিক বা নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণের কোনো স্পষ্ট আইনি এখতিয়ার এফসিসির নেই। যদিও এই চিঠির পর কোনো প্রকাশ্যে জবাব না দিয়ে এফসিসি তাদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে।
মহাকাশ খাতের দ্রুত প্রসারের কারণে এই দ্বৈত নীতির সৃষ্টি হয়েছে। স্পেসএক্স, ওয়ানওয়েব ও অ্যামাজনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো হাজার হাজার স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করছে। স্পেসএক্স অরবিটাল ডেটা সেন্টারের জন্য প্রায় ১০ লাখ স্যাটেলাইট পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। স্যাকটেলাইট ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান টম স্ট্রুপ সিএনএনকে জানান, ‘আমরা এখন একটি ধূসর এলাকায় আছি। মহাকাশ স্থায়িত্ব…’
রিপোর্টারের নাম 



















