পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পরেশ চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে এক পালিত কন্যাকে ওয়ারিশ সনদ দেওয়ার এবং বৈধ ওয়ারিশদের সনদ প্রদানে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীরা মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত চেয়ারম্যান পরেশ চন্দ্র রায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন।
অভিযোগকারী চার বোন মিনা, আকলিমা, রেখা খাতুন ও নাজমা আক্তার জানান, তাদের বাবা আব্দুল ওহাব ২০২৩ সালের ২৯ জানুয়ারি এবং মা হাজেরা বেগম একই বছরের ২৪ মার্চ মারা যান। তাদের মৃত্যুর পর চার বোনই তাদের বৈধ ও আইনানুগ ওয়ারিশ। প্রায় তিন মাস আগে তারা ওয়ারিশ সনদের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে আবেদন করলেও চেয়ারম্যান কোনো কারণ ছাড়াই তাদের সনদ না দিয়ে হয়রানি করে আসছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, চেয়ারম্যান পরেশ চন্দ্র রায় ২০২৩ সালের ৩ ডিসেম্বর আব্দুল ওহাব ও হাজেরা বেগমের পালিত কন্যা খাদিজা বেগমকে তাদের প্রকৃত কন্যা ও ওয়ারিশ উল্লেখ করে একটি ওয়ারিশ সনদ প্রদান করেছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রচলিত আইন ও ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী পালিত সন্তান পালিত পিতার সম্পত্তির আইনগত ওয়ারিশ হতে পারে না। এছাড়া, হাজেরা বেগম মারা যাওয়ার পরও তাকে ওই ওয়ারিশ সনদে জীবিত দেখিয়ে খাদিজাকে ওয়ারিশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। চেয়ারম্যানের এই কর্মকাণ্ডের ফলে তারা পিতা-মাতার বৈধ ওয়ারিশি অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং মানসিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে জানান তারা।
ভুক্তভোগীরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খাদিজা বেগমকে দেওয়া ওয়ারিশ সনদ বাতিল, ক্ষমতার অপব্যবহার ও ভুয়া সনদ দেওয়ার অভিযোগে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের নামে সঠিক ওয়ারিশ সনদ প্রদানের দাবি জানিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 
























