ঢাকা ১২:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

কুমিল্লার তিতাসে শখের আঙুর চাষে সফলতার হাতছানি: মোজাম্মেলের বাগানে দর্শনার্থীদের ভিড়

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি ইউনিয়নের শোলাকান্দি এলাকায় মোজাম্মেল হক নামের এক চাষি শখের বশে গড়ে তুলেছেন একটি বিশাল আঙুর বাগান। ইউটিউব দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে দীর্ঘ পাঁচ বছরের পরিকল্পনা শেষে তিনি এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পে হাত দেন। আড়াই মাসের মধ্যেই নতুন বাগানের গাছে গাছে থোকায় থোকায় আঙুর ধরতে শুরু করায়, এটি এখন স্থানীয়দের কাছে এক সফলতার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎসুক জনতা বাগানটি দেখতে ভিড় করছেন।

সরেজমিনে জানা যায়, গোমতী নদীর দক্ষিণ তীরে ৩১ শতাংশ জমিতে বাঁশের খুঁটি, মাচা ও নেট দিয়ে সুরক্ষিতভাবে এই আঙুরের বাগান গড়ে তুলেছেন মোজাম্মেল। নিচু জমিকে চাষের উপযোগী করতে প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে বালু ও পলিমাটি দিয়ে ভরাট করা হয়। এরপর ঝিনাইদহের মহেশপুর থেকে একুনো, বাইকুনো, ব্ল্যাক ম্যাজিক, একাডেমি ও বরতুকাল জাতের ১৪৪টি আঙুরের চারা সংগ্রহ করা হয়। গত ১৬ মার্চ রোপণ করা প্রতিটি চারার মূল্য ছিল ৪০০ টাকা। চারা সংগ্রহ ও আনুষঙ্গিক ব্যয় মিলিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় চার লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন তিনি।

মোজাম্মেল হক জানান, মহেশপুরের এক আঙুরচাষির বাগান ইউটিউবে দেখে তিনি উৎসাহিত হন এবং পরে সরেজমিনে পরিদর্শন করে নিজেই আঙুর চাষে নামেন। রোপণের মাত্র আড়াই মাসের মধ্যেই গাছে ফল আসতে শুরু করেছে। তিনি স্বীকার করেন যে অতিবৃষ্টি এবং বাগান নতুন হওয়ায় এ বছর ফলন কিছুটা কম হতে পারে, তবে আগামী বছরগুলোতে ভালো ফলনের বিষয়ে তিনি অত্যন্ত আশাবাদী। তার বিশ্বাস, একটি আঙুরগাছ ৩০ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম।

মোজাম্মেলের ছেলে আরাফাত হক সোহান জানান, আঙুরের পাশাপাশি তার বাবা শখের বশে রামবুটান, পেঁপে এবং ইতালি থেকে আনা কয়েকটি বিদেশি ফলের চারাও রোপণ করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম মোল্লা বলেন, বাগানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর থেকেই প্রতিদিন বিকালে অসংখ্য দর্শনার্থী বাগানটি দেখতে আসছেন।

বাগান দেখতে আসা দর্শনার্থীরা মনে করেন, দেশে এ ধরনের বিদেশি ফলের চাষ সম্প্রসারিত হলে আমদানি নির্ভরতা কমবে, কৃষকরা লাভবান হবেন এবং সাধারণ মানুষও তুলনামূলক কম দামে এসব ফল উপভোগ করতে পারবেন। পরিবেশবিদ অধ্যাপক মতিন সৈকত এআইপি বলেন, দেশে বিদেশি ফলের চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ ধরনের উদ্যোগ সফল করতে কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ, কারিগরি দিকনির্দেশনা ও তদারকি অত্যন্ত জরুরি। তিতাস উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন মোজাম্মেলের বাগান পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সিলেটে নিষিদ্ধ হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারের দায়ে ১১ চালককে জরিমানা

কুমিল্লার তিতাসে শখের আঙুর চাষে সফলতার হাতছানি: মোজাম্মেলের বাগানে দর্শনার্থীদের ভিড়

আপডেট সময় : ১০:৪৫:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি ইউনিয়নের শোলাকান্দি এলাকায় মোজাম্মেল হক নামের এক চাষি শখের বশে গড়ে তুলেছেন একটি বিশাল আঙুর বাগান। ইউটিউব দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে দীর্ঘ পাঁচ বছরের পরিকল্পনা শেষে তিনি এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পে হাত দেন। আড়াই মাসের মধ্যেই নতুন বাগানের গাছে গাছে থোকায় থোকায় আঙুর ধরতে শুরু করায়, এটি এখন স্থানীয়দের কাছে এক সফলতার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎসুক জনতা বাগানটি দেখতে ভিড় করছেন।

সরেজমিনে জানা যায়, গোমতী নদীর দক্ষিণ তীরে ৩১ শতাংশ জমিতে বাঁশের খুঁটি, মাচা ও নেট দিয়ে সুরক্ষিতভাবে এই আঙুরের বাগান গড়ে তুলেছেন মোজাম্মেল। নিচু জমিকে চাষের উপযোগী করতে প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে বালু ও পলিমাটি দিয়ে ভরাট করা হয়। এরপর ঝিনাইদহের মহেশপুর থেকে একুনো, বাইকুনো, ব্ল্যাক ম্যাজিক, একাডেমি ও বরতুকাল জাতের ১৪৪টি আঙুরের চারা সংগ্রহ করা হয়। গত ১৬ মার্চ রোপণ করা প্রতিটি চারার মূল্য ছিল ৪০০ টাকা। চারা সংগ্রহ ও আনুষঙ্গিক ব্যয় মিলিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় চার লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন তিনি।

মোজাম্মেল হক জানান, মহেশপুরের এক আঙুরচাষির বাগান ইউটিউবে দেখে তিনি উৎসাহিত হন এবং পরে সরেজমিনে পরিদর্শন করে নিজেই আঙুর চাষে নামেন। রোপণের মাত্র আড়াই মাসের মধ্যেই গাছে ফল আসতে শুরু করেছে। তিনি স্বীকার করেন যে অতিবৃষ্টি এবং বাগান নতুন হওয়ায় এ বছর ফলন কিছুটা কম হতে পারে, তবে আগামী বছরগুলোতে ভালো ফলনের বিষয়ে তিনি অত্যন্ত আশাবাদী। তার বিশ্বাস, একটি আঙুরগাছ ৩০ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম।

মোজাম্মেলের ছেলে আরাফাত হক সোহান জানান, আঙুরের পাশাপাশি তার বাবা শখের বশে রামবুটান, পেঁপে এবং ইতালি থেকে আনা কয়েকটি বিদেশি ফলের চারাও রোপণ করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম মোল্লা বলেন, বাগানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর থেকেই প্রতিদিন বিকালে অসংখ্য দর্শনার্থী বাগানটি দেখতে আসছেন।

বাগান দেখতে আসা দর্শনার্থীরা মনে করেন, দেশে এ ধরনের বিদেশি ফলের চাষ সম্প্রসারিত হলে আমদানি নির্ভরতা কমবে, কৃষকরা লাভবান হবেন এবং সাধারণ মানুষও তুলনামূলক কম দামে এসব ফল উপভোগ করতে পারবেন। পরিবেশবিদ অধ্যাপক মতিন সৈকত এআইপি বলেন, দেশে বিদেশি ফলের চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ ধরনের উদ্যোগ সফল করতে কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ, কারিগরি দিকনির্দেশনা ও তদারকি অত্যন্ত জরুরি। তিতাস উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন মোজাম্মেলের বাগান পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।