ভোলার বোরহানউদ্দিনে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক, ভুক্তভোগী ছাত্রী ও তার অভিভাবকসহ তিনজনকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের ভিত্তিতে পৃথক মামলা দায়েরের পর বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশ এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
ছাত্রীর দাদার দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১৬ জুলাই বিদ্যালয় ছুটির পর প্রধান শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন ৯ বছর বয়সী ওই শিশুটিকে তার কক্ষে বসিয়ে রাখেন। এরপর বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা চলে গেলে বিকেল ৩টা ১০ মিনিটের দিকে তাকে তৃতীয় তলার স্টোররুমে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। অভিযোগ উঠেছে, এই ঘটনা কাউকে জানালে শিশুটিকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। বাড়িতে ফিরে শিশুটির অস্বাভাবিক হাঁটাচলা দেখে তার দাদি কারণ জানতে চাইলে সে পুরো ঘটনা খুলে বলে।
পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. বাচ্চুকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি অভিযুক্ত শিক্ষকের পক্ষ নিয়ে ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করেন এবং মামলা না করার জন্য চাপ দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় বোরহানউদ্দিন থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
তবে, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিন তার বিরুদ্ধে ওঠা ধর্ষণের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তার দায়ের করা মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত সোমবার দুপুরের নাস্তার সময় ওই ছাত্রী বক্স থেকে অতিরিক্ত রুটি নিলে তিনি তাকে পিঠে থাপ্পড় দেন। এরপর মঙ্গলবার ছাত্রীটি স্কুলে অনুপস্থিত ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে তার পরিবারের সদস্য ও কিছু দুষ্কৃতকারী বিদ্যালয়ে এসে পাঠদান চলাকালে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং পরে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করে।
এই ঘটনায় বোরহানউদ্দিন প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি নাজরুল শিকদার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 





















