টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের শাখারিয়া-নলিন এলাকায় যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় ৬০ ফুট নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। একই সঙ্গে সড়কের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ফাটল দেখা দেওয়ায় টানা তৃতীয় দিনের মতো সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে হাজার হাজার যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি এবং তীব্র স্রোতের কারণে শাখারিয়া স্লুইসগেট সংলগ্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ভাঙন ও ফাটল ধরেছে। গত কয়েক দিনের ভাঙনের পর গত সোমবার রাতে প্রায় ৬০ ফুট সড়ক নদীগর্ভে চলে যায়। ভাঙনের ঝুঁকি বাড়তে থাকায় স্থানীয়রা তাদের ঘরবাড়ি থেকে প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। তাদের আশঙ্কা, বাঁধটি ভেঙে গেলে গোপালপুরসহ কয়েকটি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে, যার ফলে লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
হেমনগর ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শামসুল আলম জানিয়েছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আঞ্চলিক মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পাশাপাশি বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে ভাঙনকবলিত প্রায় ১০০ ফুট এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলতে দেখা গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে প্রশাসনের নির্দেশে টানা তৃতীয় দিনের মতো তারাকান্দি-ভূঞাপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মঞ্জুরুল মোর্শেদ বলেন, যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীতে স্রোতের চাপ বেড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত জিও ব্যাগ সরবরাহ করা হয়েছে এবং নদীর গতিপ্রকৃতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় স্থানে ডাম্পিং করা হচ্ছে। টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাইন উদ্দিন জানান, পানির তীব্র চাপে মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 





















