ভরা বর্ষা মৌসুমেও চাঁদপুরের মতলব উত্তরের মেঘনা নদীজুড়ে ইলিশের সেই চিরচেনা উৎসবমুখর পরিবেশ এবার অনুপস্থিত। ষাটনল থেকে আমিরাবাদ পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার নদীজুড়ে যে দৃশ্যে শত শত নৌকা ও আড়তে ইলিশের বেচাকেনা জমে উঠতো, তা এখন অতীত। জেলেদের জালে ইলিশের দেখা মিলছে না বললেই চলে, যার ফলে পুরো মৎস্য খাতজুড়ে বিরাজ করছে গভীর উদ্বেগ।
ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধানে সোমবার চাঁদপুরে কাজ শুরু করেছে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস)-এর বিশেষজ্ঞরা প্রথমে জেলা মৎস্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তারা জেলের সংখ্যা, সরকারি সহায়তা, বিকল্প কর্মসংস্থান, প্রণোদনা এবং ইলিশ উৎপাদন হ্রাসের সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন।
আমিরাবাদ আড়তের মাছ ব্যবসায়ী মো. সাঈদ হোসেন জানান, সকাল থেকে আড়তে বসে থাকলেও ইলিশের সরবরাহ নেই বললেই চলে। জেলেরা মাছ না পাওয়ায় বাজারও প্রাণহীন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক আড়ত ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, নিষিদ্ধ সময়ে অভিযান চললেও অন্য কিছু কারণে মাছের স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যা তদন্তের আওতায় আনা জরুরি।
স্থানীয় জেলে টিটু বর্মণ ও দিলীপ চন্দ্র রায় জানান, দিন-রাত নদীতে জাল ফেলেও পর্যাপ্ত ইলিশ মিলছে না, এমনকি ইঞ্জিনচালিত নৌকার তেলের খরচও উঠছে না। এতে তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে এবং কিস্তির টাকা পরিশোধে হিমশিম খেতে হচ্ছে। মাছের সরবরাহ কম থাকায় বাজারে যে অল্প ইলিশ আসছে, তার দামও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে।
মতলবের মাটি ও মানুষ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা শামীম খান অভিযোগ করেন, গত কয়েক বছর ধরে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর দূষিত শিল্পবর্জ্যের পানি ষাটনল থেকে এখলাসপুর পর্যন্ত মেঘনায় মিশে যাচ্ছে, যা মাছের মৃত্যুর কারণ হচ্ছে। তিনি এ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের দাবি জানান। ইলিশ গবেষক আনিসুর রহমান প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন যে, ইলিশের সরবরাহ কমেছে এবং বড় ইলিশের সংখ্যাও নগণ্য। তবে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে তিনি জানান, আরও বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























