ঢাকা ০১:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা না দেওয়ার দাবিতে মশাল মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ: জাতীয় সম্পদ রক্ষায় সোচ্চার বন্দর রক্ষা কমিটি

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি (নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল), সিসিটি (চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল) এবং বন্দরের অন্য কোনো স্থাপনা বিদেশি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার ‘ষড়যন্ত্র’ বন্ধের দাবিতে বন্দর রক্ষা কমিটি, চট্টগ্রামের উদ্যোগে এক মশাল মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যায় নগরীর চেরাগীর মোড় থেকে লালদিঘির পাড় পর্যন্ত এই মশাল মিছিল বের করা হয়। তবে প্রশাসনের অনুরোধে প্রতীকী মশাল ব্যবহার করা হয়। মিছিলে অংশ নেন বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদার ও সদস্য সচিব ফজলুল করিম মিন্টুসহ জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র এবং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি কৌশলগত প্রতিষ্ঠান। এই বন্দরের লাভজনক টার্মিনাল বা অন্য কোনো স্থাপনা বিদেশি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়া হলে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা বন্দরের আধুনিকায়নের নামে জাতীয় সম্পদ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই উল্লেখ করে বলেন, প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগেই বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়ন করতে হবে।

নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, দেশব্যাপী ধারাবাহিক প্রতিবাদ, সমাবেশ, মানববন্ধন ও বিভিন্ন কর্মসূচি চলমান থাকলেও সরকার জনগণের এই উদ্বেগকে আমলে নিচ্ছে না। তারা স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত ইজারা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চেষ্টা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও করেছিল, কিন্তু জনগণের প্রবল বিরোধিতার মুখে তা সফল হয়নি। তাদের প্রত্যাশা ছিল, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণের মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব দেবে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে বর্তমান সরকারও পূর্ববর্তী সরকারগুলোর পথ অনুসরণ করছে।

সমাবেশে বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার আগামী ২ আগস্ট বন্দর অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচির ঘোষণা দেন। এই কর্মসূচি জাতীয় সম্পদ রক্ষায় তাদের দৃঢ় অবস্থানেরই প্রতিফলন বলে জানান তিনি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দিল্লির আন্দোলনকারীদের জন্য সংহতির বার্তা: ভারতজুড়ে পাঠানো হচ্ছে খাবার ও রসদ

চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা না দেওয়ার দাবিতে মশাল মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ: জাতীয় সম্পদ রক্ষায় সোচ্চার বন্দর রক্ষা কমিটি

আপডেট সময় : ১১:৫৭:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি (নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল), সিসিটি (চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল) এবং বন্দরের অন্য কোনো স্থাপনা বিদেশি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার ‘ষড়যন্ত্র’ বন্ধের দাবিতে বন্দর রক্ষা কমিটি, চট্টগ্রামের উদ্যোগে এক মশাল মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যায় নগরীর চেরাগীর মোড় থেকে লালদিঘির পাড় পর্যন্ত এই মশাল মিছিল বের করা হয়। তবে প্রশাসনের অনুরোধে প্রতীকী মশাল ব্যবহার করা হয়। মিছিলে অংশ নেন বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদার ও সদস্য সচিব ফজলুল করিম মিন্টুসহ জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র এবং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি কৌশলগত প্রতিষ্ঠান। এই বন্দরের লাভজনক টার্মিনাল বা অন্য কোনো স্থাপনা বিদেশি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়া হলে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা বন্দরের আধুনিকায়নের নামে জাতীয় সম্পদ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই উল্লেখ করে বলেন, প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগেই বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়ন করতে হবে।

নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, দেশব্যাপী ধারাবাহিক প্রতিবাদ, সমাবেশ, মানববন্ধন ও বিভিন্ন কর্মসূচি চলমান থাকলেও সরকার জনগণের এই উদ্বেগকে আমলে নিচ্ছে না। তারা স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত ইজারা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চেষ্টা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও করেছিল, কিন্তু জনগণের প্রবল বিরোধিতার মুখে তা সফল হয়নি। তাদের প্রত্যাশা ছিল, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণের মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব দেবে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে বর্তমান সরকারও পূর্ববর্তী সরকারগুলোর পথ অনুসরণ করছে।

সমাবেশে বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার আগামী ২ আগস্ট বন্দর অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচির ঘোষণা দেন। এই কর্মসূচি জাতীয় সম্পদ রক্ষায় তাদের দৃঢ় অবস্থানেরই প্রতিফলন বলে জানান তিনি।