রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের গোপিডাঙ্গা মৌলভীবাজার এলাকায় একটি পাকা সেতু এখন স্থানীয়দের জন্য আশীর্বাদের বদলে দীর্ঘ এক যুগের দুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। প্রায় ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি থাকলেও দুই পাশের সংযোগ সড়ক না থাকায় অন্তত ১০ গ্রামের মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বারবার আবেদন করেও স্থায়ী সমাধানের অভাব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে পড়ে আছে। স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে কোনোমতে যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছেন। তবে সময়ের সাথে সাথে এই সাঁকোটিও অত্যন্ত নড়বড়ে হয়ে পড়েছে, যা যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ভ্যান ও ঘোড়ার গাড়িসহ হাজারো মানুষ চরম ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো ব্যবহার করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে ইউএসএআইডি ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে, কেয়ার বাংলাদেশের সহযোগিতায় এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর তত্ত্বাবধানে প্রায় ৩৭ লাখ ২৪ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। নির্মাণের পর প্রায় এক বছর নির্বিঘ্নে চলাচল সম্ভব হলেও পরবর্তীতে তিস্তার ভয়াবহ বন্যায় সেতুটি একদিকে হেলে যায় এবং দুই পাশের সংযোগ সড়ক বারবার ভেঙে পড়ে। এরপর থেকে এটি আর স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হয়নি।
স্থানীয় কৃষক দরদি জানান, সংযোগ সড়ক না থাকায় কৃষিপণ্য বাজারে নিতে তাদের অতিরিক্ত সময় ও খরচ হচ্ছে, যার ফলে তারা উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শিক্ষার্থী আ. রহিম বলেন, “প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। বর্ষা মৌসুমে ভয় আরও বেড়ে যায়।” তকিপল হাটের ইজারাদার জানান, সেতুর বেহাল অবস্থার কারণে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না, এতে কৃষকরা পণ্য অন্য হাটে নিয়ে যাওয়ায় হাটের রাজস্ব আয়ও কমে যাচ্ছে।
বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনছার আলী স্বীকার করেছেন যে সংযোগ সড়ক মেরামতের জন্য কয়েকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বন্যার পানিতে তা আবার ভেঙে যায়। তিনি নতুন সেতু নির্মাণের জন্য একাধিকবার প্রকৌশল বিভাগে আবেদন করেছেন। কাউনিয়া উপজেলার সাবেক উপজেলা প্রকৌশলী মো. মনিরুল ইসলামও বিষয়টি অবগত আছেন এবং নতুন সেতুর প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 

























