ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়ন এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে কার্যপ্রণালি বিধি ও দীর্ঘদিনের সংসদীয় চর্চা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, সরকারি দল সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে একচ্ছত্র ক্ষমতার অপব্যবহার করে সংসদীয় জবাবদিহির সংস্কৃতিকে দুর্বল করছে।
মঙ্গলবার এক লিখিত বিবৃতিতে টিআইবি সংসদীয় কমিটির ক্ষমতা ও কার্যকারিতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সম্পৃক্ত করে নতুন আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে। টিআইবির মতে, ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ এবং ‘পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিলগুলো পূর্বঘোষণা ছাড়াই সম্পূরক কার্যসূচির মাধ্যমে সংসদে আনা হয়েছে। এছাড়া বিরোধী দলের আপত্তি উপেক্ষা করে আরও কয়েকটি বিল দ্রুত পাস করা হয়েছে, যা আইন প্রণয়নের সাংবিধানিক ও সংসদীয় প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী কোনো বিল উত্থাপনের পর তা স্থায়ী কমিটি, বাছাই কমিটি বা জনমত যাচাইয়ের জন্য পাঠানোর সুযোগ থাকে। কিন্তু ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর ক্ষেত্রে এসব কোনো প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে জনমত যাচাই বা বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব বিবেচনায় নেওয়া হয়নি এবং সংশোধনী প্রস্তাব দেওয়ারও সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি সংসদ সদস্যদের কাছে বিলের অনুলিপি আগেভাগে সরবরাহের প্রচলিত রীতি থাকলেও এক্ষেত্রে বিল উত্থাপনের ঠিক আগে কপি দেওয়া হয়, ফলে সদস্যদের বিলটি পর্যালোচনার বাস্তব সুযোগ না দিয়েই তা পাস করা হয়।
সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে টিআইবি। সংস্থাটি বলছে, কার্যপ্রণালি বিধির ১৮৮-এর চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিকভাবে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীকে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়েছে। এতে স্বার্থের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা কঠিন হবে। নব্বই-পরবর্তী সংসদীয় চর্চায় এ ধরনের নজির নেই বলেও টিআইবি উল্লেখ করেছে।
রিপোর্টারের নাম 























