ঢাকা ০৪:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

বাঁশখালীর বন্যায় বিপর্যস্ত এতিম কায়সারের তিনদিন পর জুটলো একবেলা খাবার

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ইলশা গ্রামে তিনদিন অনাহারে থাকার পর এতিম শিশু কায়সারের ভাগ্যে জুটলো একবেলা খিচুড়ি। শনিবার দুপুরে এই দৃশ্যটি গ্রামবাসীর চোখে পড়ে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে। টানা ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং সমুদ্রের জোয়ারের কারণে কায়সারদের মাটির ঘর ভেঙে যাওয়ায় তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছিল।

জানা গেছে, কায়সার তার মা কুলসুমা (২৭) এবং চার বছর বয়সী ছোট বোন রিয়া মনিকে নিয়ে কোনোমতে বাঁশ ও পলিথিন দিয়ে বানানো একটি অস্থায়ী ঘরে বসবাস করছে। এক বছর আগে বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে কুলসুমা মানুষের বাড়িতে কাজ করে কোনোমতে সংসার চালান। মাঝে মাঝে কায়সারও ছোটখাটো কাজ করে মায়ের অভাবের সংসারে সাহায্য করে।

সম্প্রতি বন্যায় তাদের সবকিছু তলিয়ে যাওয়ায় পরিবারটি আরও বিপাকে পড়ে। টানা দুদিন শুকনো খাবার খেয়ে কোনোমতে জীবন কাটছিল তাদের। ছোট বোনটি ভাতের জন্য কান্না শুরু করলে কায়সার একটি পাতিল নিয়ে বের হয় এবং সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাস্তার ধারে বসে খাবারের অপেক্ষায় ছিল।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর হঠাৎ একদল যুবক বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে রান্না করা খিচুড়ি বিতরণ করতে আসে। কায়সার দ্রুত হাত বাড়িয়ে দেয় এবং অবশেষে তার ভাগ্যে জুটলো এক প্লেট খাবার। এই মানবিক দৃশ্যে উপস্থিত অনেকেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনীর প্রশংসা প্রধানমন্ত্রীর

বাঁশখালীর বন্যায় বিপর্যস্ত এতিম কায়সারের তিনদিন পর জুটলো একবেলা খাবার

আপডেট সময় : ০২:৫৩:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ইলশা গ্রামে তিনদিন অনাহারে থাকার পর এতিম শিশু কায়সারের ভাগ্যে জুটলো একবেলা খিচুড়ি। শনিবার দুপুরে এই দৃশ্যটি গ্রামবাসীর চোখে পড়ে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে। টানা ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং সমুদ্রের জোয়ারের কারণে কায়সারদের মাটির ঘর ভেঙে যাওয়ায় তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছিল।

জানা গেছে, কায়সার তার মা কুলসুমা (২৭) এবং চার বছর বয়সী ছোট বোন রিয়া মনিকে নিয়ে কোনোমতে বাঁশ ও পলিথিন দিয়ে বানানো একটি অস্থায়ী ঘরে বসবাস করছে। এক বছর আগে বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে কুলসুমা মানুষের বাড়িতে কাজ করে কোনোমতে সংসার চালান। মাঝে মাঝে কায়সারও ছোটখাটো কাজ করে মায়ের অভাবের সংসারে সাহায্য করে।

সম্প্রতি বন্যায় তাদের সবকিছু তলিয়ে যাওয়ায় পরিবারটি আরও বিপাকে পড়ে। টানা দুদিন শুকনো খাবার খেয়ে কোনোমতে জীবন কাটছিল তাদের। ছোট বোনটি ভাতের জন্য কান্না শুরু করলে কায়সার একটি পাতিল নিয়ে বের হয় এবং সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাস্তার ধারে বসে খাবারের অপেক্ষায় ছিল।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর হঠাৎ একদল যুবক বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে রান্না করা খিচুড়ি বিতরণ করতে আসে। কায়সার দ্রুত হাত বাড়িয়ে দেয় এবং অবশেষে তার ভাগ্যে জুটলো এক প্লেট খাবার। এই মানবিক দৃশ্যে উপস্থিত অনেকেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন।