ঢাকা ০৯:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

পুরানা পল্টন কলেজে নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন: দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান

রাজধানীর পুরানা পল্টন কলেজে অবশেষে নবনির্মিত একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। সোমবার এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন এই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন, যা কলেজের দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত বঞ্চনার অবসান ঘটাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলেজ গভর্নিং বডির সদস্য শাহীন আহমেদ খান, কলেজের অধ্যক্ষ লুৎফুন নাহার, বিশিষ্ট স্থানীয় ব্যক্তিত্ব মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন, মাওলানা মোস্তফা কামালসহ কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন একটি শক্তিশালী জাতি গঠনে শিক্ষার অপরিহার্য ভূমিকার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, শিক্ষার মাধ্যমেই জাতির ভিত্তি সুদৃঢ় হয় এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের মেরুদণ্ড শক্তিশালী হয়। তবে অতীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে যে ধরনের ভূমিকা রাখা প্রয়োজন ছিল, তা যথাযথভাবে দেখা যায়নি বলে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সন্নিকটে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও পুরানা পল্টন কলেজ দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত ছিল। কলেজের শিক্ষার মানোন্নয়ন বা ভবন উন্নয়নে কার্যকর কোনো উদ্যোগ অতীতে গ্রহণ করা হয়নি, যার ফলস্বরূপ জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়েই পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল।

ড. হেলাল উদ্দিন জানান, ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি অবকাঠামোগত দিক থেকে এখনও অনেক পিছিয়ে। অথচ এর পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠিত অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা অর্জন করেছে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় কলেজটির অবকাঠামোগত উন্নয়নের উদ্যোগ নেন এবং পরবর্তীতে সরকার নতুন ভবন নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ প্রদান করে, যার ফলশ্রুতিতে আজ এই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন সম্ভব হলো।

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন ভবন নির্মিত হলে কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম আরও গতিশীল ও মানসম্মত হবে। একই সাথে তিনি নির্মাণকাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজ বরদাশত করা হবে না এবং অনিয়মের প্রমাণ মিললে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানের শেষে তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়ন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বগুড়ায় খেলতে গিয়ে পুকুরে ডুবে তিন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু, গুচ্ছগ্রামে শোকের মাতম

পুরানা পল্টন কলেজে নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন: দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান

আপডেট সময় : ০৫:৪৬:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর পুরানা পল্টন কলেজে অবশেষে নবনির্মিত একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। সোমবার এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন এই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন, যা কলেজের দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত বঞ্চনার অবসান ঘটাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলেজ গভর্নিং বডির সদস্য শাহীন আহমেদ খান, কলেজের অধ্যক্ষ লুৎফুন নাহার, বিশিষ্ট স্থানীয় ব্যক্তিত্ব মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন, মাওলানা মোস্তফা কামালসহ কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন একটি শক্তিশালী জাতি গঠনে শিক্ষার অপরিহার্য ভূমিকার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, শিক্ষার মাধ্যমেই জাতির ভিত্তি সুদৃঢ় হয় এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের মেরুদণ্ড শক্তিশালী হয়। তবে অতীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে যে ধরনের ভূমিকা রাখা প্রয়োজন ছিল, তা যথাযথভাবে দেখা যায়নি বলে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সন্নিকটে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও পুরানা পল্টন কলেজ দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত ছিল। কলেজের শিক্ষার মানোন্নয়ন বা ভবন উন্নয়নে কার্যকর কোনো উদ্যোগ অতীতে গ্রহণ করা হয়নি, যার ফলস্বরূপ জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়েই পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল।

ড. হেলাল উদ্দিন জানান, ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি অবকাঠামোগত দিক থেকে এখনও অনেক পিছিয়ে। অথচ এর পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠিত অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা অর্জন করেছে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় কলেজটির অবকাঠামোগত উন্নয়নের উদ্যোগ নেন এবং পরবর্তীতে সরকার নতুন ভবন নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ প্রদান করে, যার ফলশ্রুতিতে আজ এই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন সম্ভব হলো।

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন ভবন নির্মিত হলে কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম আরও গতিশীল ও মানসম্মত হবে। একই সাথে তিনি নির্মাণকাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজ বরদাশত করা হবে না এবং অনিয়মের প্রমাণ মিললে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানের শেষে তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়ন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।