ঢাকা ০১:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

মেটার এআই স্মার্টগ্লাস: শিশুদের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

প্রযুক্তির উৎকর্ষের সাথে সাথে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও শিশু সুরক্ষার বিষয়টি নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে মেটার নতুন এআই স্মার্টগ্লাস বাজারে আসার পর শিশুদের অজান্তে ছবি বা ভিডিও ধারণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সেগুলোর অপব্যবহারের আশঙ্কা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

স্মার্টগ্লাসের মাধ্যমে এখন জনসমক্ষে যে কারো অগোচরে দৃশ্য ধারণ করা অনেক সহজ হয়ে গেছে। মেটার ওয়্যারেবলস বিভাগের প্রধান অ্যালেক্স হিমেল সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানান, তিনি এই গ্লাস ব্যবহার করে তার মেয়ের একটি অনুষ্ঠানের ভিডিও করেছেন মোবাইল ফোনের দিকে না তাকিয়েই। তবে সমালোচকরা বলছেন, এই সুবিধাই অসাধু ব্যক্তিদের জন্য অন্যের ব্যক্তিগত মুহূর্ত গোপনে ধারণ করার সুযোগ করে দিচ্ছে।

যদিও মেটার এই স্মার্টগ্লাসে রেকর্ডিং চলাকালীন একটি ছোট এলইডি আলো জ্বলে ওঠে, তবে সাধারণ মানুষ এখনও এই সংকেত সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন নয়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এআই প্রযুক্তির সাহায্যে শিশুদের সংগৃহীত ছবি দিয়ে বিকৃত বা আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরি করা সম্ভব, যা ইন্টারনেটে শিশুদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ইন্টারনেট ওয়াচ ফাউন্ডেশনের মতে, এ ধরনের প্রযুক্তির অপব্যবহার শিশুদের প্রতি সহিংসতাকে উসকে দিতে পারে। উল্লেখ্য যে, ২০১৩ সালে গুগল একই ধরনের পণ্য আনলেও গোপনীয়তা ইস্যুতে তা ব্যর্থ হয়েছিল। তবে মেটা এবার রে-ব্যানের সাথে মিলে আকর্ষণীয় নকশায় এটি বাজারজাত করছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ইতোমধ্যে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের চত্বরে স্মার্টগ্লাস ব্যবহার নিষিদ্ধ করার কথা ভাবছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপ জয়: মাদ্রিদে স্প্যানিশ বীরদের রাজকীয় সংবর্ধনা, উল্লাসে ভাসল লাখো জনতা

মেটার এআই স্মার্টগ্লাস: শিশুদের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

আপডেট সময় : ০৯:২৭:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

প্রযুক্তির উৎকর্ষের সাথে সাথে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও শিশু সুরক্ষার বিষয়টি নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে মেটার নতুন এআই স্মার্টগ্লাস বাজারে আসার পর শিশুদের অজান্তে ছবি বা ভিডিও ধারণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সেগুলোর অপব্যবহারের আশঙ্কা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

স্মার্টগ্লাসের মাধ্যমে এখন জনসমক্ষে যে কারো অগোচরে দৃশ্য ধারণ করা অনেক সহজ হয়ে গেছে। মেটার ওয়্যারেবলস বিভাগের প্রধান অ্যালেক্স হিমেল সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানান, তিনি এই গ্লাস ব্যবহার করে তার মেয়ের একটি অনুষ্ঠানের ভিডিও করেছেন মোবাইল ফোনের দিকে না তাকিয়েই। তবে সমালোচকরা বলছেন, এই সুবিধাই অসাধু ব্যক্তিদের জন্য অন্যের ব্যক্তিগত মুহূর্ত গোপনে ধারণ করার সুযোগ করে দিচ্ছে।

যদিও মেটার এই স্মার্টগ্লাসে রেকর্ডিং চলাকালীন একটি ছোট এলইডি আলো জ্বলে ওঠে, তবে সাধারণ মানুষ এখনও এই সংকেত সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন নয়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এআই প্রযুক্তির সাহায্যে শিশুদের সংগৃহীত ছবি দিয়ে বিকৃত বা আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরি করা সম্ভব, যা ইন্টারনেটে শিশুদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ইন্টারনেট ওয়াচ ফাউন্ডেশনের মতে, এ ধরনের প্রযুক্তির অপব্যবহার শিশুদের প্রতি সহিংসতাকে উসকে দিতে পারে। উল্লেখ্য যে, ২০১৩ সালে গুগল একই ধরনের পণ্য আনলেও গোপনীয়তা ইস্যুতে তা ব্যর্থ হয়েছিল। তবে মেটা এবার রে-ব্যানের সাথে মিলে আকর্ষণীয় নকশায় এটি বাজারজাত করছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ইতোমধ্যে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের চত্বরে স্মার্টগ্লাস ব্যবহার নিষিদ্ধ করার কথা ভাবছে।