ইংলিশ ফুটবলের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, দুবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী কিংবদন্তি কেভিন কিগান আর আমাদের মাঝে নেই। ৭৫ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এই কিংবদন্তি। তার প্রয়াণে ফুটবল বিশ্ব শোকাহত।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে কিগানের অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে আসে। পরবর্তীতে জুন মাসে চিকিৎসকেরা জানান যে তিনি চতুর্থ ধাপের ক্যান্সারে আক্রান্ত। সোমবার তার পরিবার এবং তার সাবেক ক্লাব নিউক্যাসল ইউনাইটেড পৃথক বিবৃতিতে এই শোকাবহ খবর নিশ্চিত করে।
সত্তর ও আশির দশকে ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড হিসেবে পরিচিত ছিলেন কেভিন কিগান। তার ছোটখাটো গড়ন হলেও, দুরন্ত গতি, অদম্য লড়াইয়ের মানসিকতা এবং গোল করার সহজাত ক্ষমতার জন্য তিনি সমর্থকদের কাছে ‘মাইটি মাউস’ নামে পরিচিতি লাভ করেন।
লিভারপুলের হয়ে তার ক্যারিয়ার ছিল ঈর্ষণীয়। ক্লাবটির জার্সিতে তিনি জিতেছেন তিনটি ফার্স্ট ডিভিশন শিরোপা, একটি এফএ কাপ, দুটি উয়েফা কাপ এবং ১৯৭৭ সালে লিভারপুলের প্রথম ইউরোপিয়ান কাপ জয়েও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
পরবর্তীতে জার্মান ক্লাব হামবুর্গে যোগ দিয়ে তিনি আরও সাফল্যের শিখরে আরোহণ করেন। ১৯৭৯ সালে বুন্দেসলিগা শিরোপা জয়ের পাশাপাশি ১৯৭৮ ও ১৯৭৯ সালে টানা দুইবার ইউরোপের বর্ষসেরা ফুটবলারের সম্মানজনক ব্যালন ডি’অর জিতে তিনি নিজের কিংবদন্তির মর্যাদা আরও সুদৃঢ় করেন।
ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়েও কিগানের ক্যারিয়ার ছিল উজ্জ্বল। তিনি ৬৩ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ২১ গোল করেন এবং ৩১ ম্যাচে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন।
খেলোয়াড়ি জীবন শেষে কোচ হিসেবেও তিনি নিজের ছাপ রেখে যান। ১৯৯২ সালে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের দায়িত্ব নিয়ে তিনি ক্লাবটিকে আবার ইংলিশ শীর্ষ লিগে ফিরিয়ে আনেন এবং আক্রমণাত্মক, দর্শকনন্দিত ফুটবল উপহার দিয়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান। পরবর্তীতে তিনি ইংল্যান্ড জাতীয় দল, ফুলহাম এবং ম্যানচেস্টার সিটির কোচের দায়িত্বও পালন করেন।
রিপোর্টারের নাম 























