সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে প্রবহমান সুরমা নদীর করাল গ্রাসে কামধরপুর গ্রামবাসী আতঙ্কিত। ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে শতাধিক বসতভিটা, মসজিদ এবং একটি বাজার। সরেজমিনে দেখা গেছে, ফেনারবাঁক ইউনিয়নের কামধরপুর গ্রামে শতাধিক বসতভিটার পাকা, আধাপাকা ঘর এবং দোতলা জামে মসজিদ সুরমা নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে। উপজেলার প্রাচীন এই গ্রাম প্রায় বিলীন হওয়ার পথে। ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে মসজিদসহ শতাধিক বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
পাশাপাশি নদীভাঙনের শিকার হয়েছে কামধরপুর বাজারটিও। বাজারের ৬৫টির বেশি দোকান কোটামালিক ও ব্যবসায়ীরা ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। গ্রাম ও বাজারটিতে বিগত কয়েক বছর ধরে সুরমা নদীর ভাঙন চরম আকার ধারণ করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। কামধরপুর গ্রাম ছাড়াও উপজেলার আরও অসংখ্য গ্রাম ও বাজার সুরমা নদীর ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
কামধরপুর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি দিলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমাদের গ্রামটি আড়াইশ বছরের বেশি পুরান। ছোটবেলায় আমরা নদীর পাড়ে ফুটবল খেলেছি। ফুটবল খেলার মাঠসহ একশতেরও বেশি পরিবারের ভিটামাটি ভেঙে গেছে নদীতে। কয়েক বছর ধরে নদী যে ভাঙন শুরু করেছে, আমরা আর বেশি দিন এখানে বাস করতে পারব না। এখন মসজিদের বাউন্ডারি ভেঙে গেছে, দুইশরও বেশি পরিবারের ভিটামাটিসহ মসজিদটি ভাঙার পথে।’
কামধরপুর বাজারের ব্যবসায়ী শফিক মিয়া বলেন, ‘কামধরপুরের শতাধিক পরিবারসহ জামে মসজিদটি নদীর ভাঙনে পড়েছে। কামধরপুর বাজারের জামে মসজিদ ও দোকান ঘরও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে গ্রাম ও বাজারটি নদী ভেঙে বিলীন হয়ে যাবে। আমি গ্রাম ও বাজার রক্ষায় জোর দাবি জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমাদের এই গ্রাম নদীভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে। কামধরপুর বাজারটির অবস্থাও ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া পাইনি। ইতিমধ্যে শতাধিক পরিবারের একমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই বসতবাড়ি সুরমা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আমি গ্রামের জামে মসজিদসহ দুই শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি ও বাজার রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।’ ফেনারবাঁক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কাজল চন্দ্র তালুকদার বলেন, ‘সুরমা নদীর ভাঙনে গ্রামটির অনেক পরিবার বাপ-দাদার স্মৃতিবিজড়িত বসতভিটা হারিয়েছে। এখন নদীভাঙন প্রকট আকার ধারণ করেছে। গ্রামের মসজিদসহ শতাধিক বসতভিটা…’
রিপোর্টারের নাম 























