ঢাকা ০৬:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

এশিয়ায় অনলাইন প্রতারণার ভয়াবহ বিস্তার: এক বছরে ক্ষতি ১১৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৯:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ওশেনিয়া অঞ্চলে অনলাইন প্রতারণার ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে জাতিসংঘের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে। গত এক বছরে এই অঞ্চলে আন্তর্জাতিক অনলাইন স্ক্যামের মাধ্যমে গ্রাহকদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১৪ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, ২০২৩ সালের তুলনায় এই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

জাতিসংঘের ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম বিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূলত অনলাইন বিনিয়োগ এবং প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে অপরাধী চক্রগুলো এই বিশাল অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালে যেখানে ক্ষতির পরিমাণ ছিল ১৮ থেকে ৩৭ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে, সেখানে গত এক বছরে তা ৮৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন থেকে ১১৪ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। এটি আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রগুলোর নাটকীয় ও আশঙ্কাজনক বিস্তৃতিরই বহিঃপ্রকাশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ কম্বোডিয়া ও মিয়ানমার বর্তমানে এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এসব দেশে সুরক্ষিত দুর্গের মতো বিশাল কমপ্লেক্স তৈরি করে ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং ভুয়া প্রেমের ফাঁদ পাতা হয়। এসব প্রতারণা কেন্দ্রে কাজ করা কর্মীদের অনেকেই মানবপাচারের শিকার হয়ে সেখানে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। গত দুই বছরে এই প্রতারণার শিকার হয়ে সবচেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ান।

তবে বিশ্বব্যাপী এই জালিয়াত চক্রের দৌরাত্ম্য কমাতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও চীনের চাপে আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষগুলো কঠোর অভিযান শুরু করেছে। বিশেষ করে সাইবার স্ক্যামের সাথে জড়িত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর কম্বোডিয়া থেকে বেশ কয়েকজন মূল হোতাকে চীনে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে।

ইউএনওডিসি সতর্ক করে জানিয়েছে, এই অপরাধী চক্রগুলো এখন আর কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নেই। তারা প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত উন্নত এক বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। বর্তমানে অর্থ পাচার, মানবপাচার এবং তথ্য চুরির মতো অপরাধগুলো তারা সমন্বিতভাবে পরিচালনা করছে। এই সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রগুলো এখন কেবল সাধারণ মানুষের জন্যই নয়, বরং বিভিন্ন দেশের প্রশাসনিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীতে স্ত্রীকে জবাই করে হত্যা: স্বামীর মৃত্যুদণ্ড, ১ লাখ টাকা জরিমানা

এশিয়ায় অনলাইন প্রতারণার ভয়াবহ বিস্তার: এক বছরে ক্ষতি ১১৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে

আপডেট সময় : ১০:৫৯:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ওশেনিয়া অঞ্চলে অনলাইন প্রতারণার ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে জাতিসংঘের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে। গত এক বছরে এই অঞ্চলে আন্তর্জাতিক অনলাইন স্ক্যামের মাধ্যমে গ্রাহকদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১৪ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, ২০২৩ সালের তুলনায় এই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

জাতিসংঘের ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম বিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূলত অনলাইন বিনিয়োগ এবং প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে অপরাধী চক্রগুলো এই বিশাল অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালে যেখানে ক্ষতির পরিমাণ ছিল ১৮ থেকে ৩৭ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে, সেখানে গত এক বছরে তা ৮৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন থেকে ১১৪ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। এটি আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রগুলোর নাটকীয় ও আশঙ্কাজনক বিস্তৃতিরই বহিঃপ্রকাশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ কম্বোডিয়া ও মিয়ানমার বর্তমানে এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এসব দেশে সুরক্ষিত দুর্গের মতো বিশাল কমপ্লেক্স তৈরি করে ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং ভুয়া প্রেমের ফাঁদ পাতা হয়। এসব প্রতারণা কেন্দ্রে কাজ করা কর্মীদের অনেকেই মানবপাচারের শিকার হয়ে সেখানে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। গত দুই বছরে এই প্রতারণার শিকার হয়ে সবচেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ান।

তবে বিশ্বব্যাপী এই জালিয়াত চক্রের দৌরাত্ম্য কমাতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও চীনের চাপে আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষগুলো কঠোর অভিযান শুরু করেছে। বিশেষ করে সাইবার স্ক্যামের সাথে জড়িত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর কম্বোডিয়া থেকে বেশ কয়েকজন মূল হোতাকে চীনে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে।

ইউএনওডিসি সতর্ক করে জানিয়েছে, এই অপরাধী চক্রগুলো এখন আর কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নেই। তারা প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত উন্নত এক বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। বর্তমানে অর্থ পাচার, মানবপাচার এবং তথ্য চুরির মতো অপরাধগুলো তারা সমন্বিতভাবে পরিচালনা করছে। এই সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রগুলো এখন কেবল সাধারণ মানুষের জন্যই নয়, বরং বিভিন্ন দেশের প্রশাসনিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।