রাজবাড়ী পৌর এলাকার পয়োবর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্টেশনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় পৌরবাসী চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা জোরপূর্বক পূর্বের নিযুক্ত কর্মীদের হটিয়ে স্টেশনটি জবরদখল করায় বর্জ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। এর ফলে পৌরসভার শত শত পরিবার অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে এবং পরিবেশ দূষণ বেড়ে চলেছে।
জানা গেছে, রাজবাড়ী পৌরসভার বাসাবাড়ি ও অফিসের পয়োবর্জ্য সংগ্রহের জন্য ন্যাচার সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এবং রাজবাড়ী উন্নয়ন সংস্থা নামের দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের (এনজিও) সঙ্গে চুক্তি ছিল। সাবেক মেয়রের আমলে করা এই চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত তাদের মেয়াদ ছিল। পৌর কর্তৃপক্ষ চুক্তির শর্তানুযায়ী তাদের গাড়ি, ভ্যান ও ভ্যাকুয়াম ট্রাক ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছিল এবং এই এনজিওগুলো ওয়ার্ডভিত্তিক লোক নিয়োগ করে বাড়ি বাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করে ডাম্পিং স্টেশনে ফেলতো।
তবে, অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারদলীয় কিছু নেতাকর্মী ডাম্পিং স্টেশনের ব্যবস্থাপনা সংস্থার কার্যালয়টি জবরদখল করে নেয়। এর ফলে ভয়ে ও আতঙ্কে পূর্বের সংস্থার কর্মীরা কাজ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। ডাম্পিং এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আগের সাইনবোর্ড সরিয়ে ফেলা হয়েছে, কিন্তু নতুন কোনো সাইনবোর্ড লাগানো হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মচারী জানান, নতুন দখলদাররা কোনো নিয়মের ধার ধারে না, যার কারণে পৌর নাগরিকদের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনায় জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।
এই জবরদখলের বিষয়ে গত ১৯ এপ্রিল ন্যাচার সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন ও রাজবাড়ী উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল হক দায়িত্ব এড়ানোর মতো কথা বলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি জানান, পৌরসভা থেকে কাউকে নতুনভাবে ইজারা দেওয়া হয়নি। এই পরিস্থিতিতে, আগে যেখানে একদিন পরপর বর্জ্য সংগ্রহ করা হতো, এখন সপ্তাহে মাত্র দুদিন সংগ্রহ করা হচ্ছে, যা বাড়িতে বর্জ্য জমার পরিমাণ বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং পৌরবাসীরা প্রতিকার চেয়ে প্রতিদিন পৌরসভায় অভিযোগ জানাচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 

























